খান নজম-ই-এলাহি
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, 12:16 AM
বলছি ৫ই আগস্ট ২০২৪ এর কথা
আমি ৫২’র বাঙালি, বাঙালি ৭১’র;
আমি দেখেছি স্বাধীনতা ২০২৪’র
আমি লাল-সবুজ পতাকার, আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশের।
আমি বারুদ, জ্বলে উঠি ঝলসে দেই
শোষক ও অত্যাচারীর দর্প পুড়ে করি ছারখার।
আধুনিক সভ্যতায় এই বাংলায় দেখিছি আমি গণতন্ত্রের নামে বর্বর গণহত্যা
হত্যা, খুন, ধর্ষণ ছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনার রাজত্তের প্রতিদিনের ঘটনা
একটানা দীর্ঘ ষোলো বছরের শোষণ আর ভারতীয় আগ্রাসন
ভয়ে অস্থির থাকতো এ দেশের জনগণ
তবুও কতটা নির্মমতা সইতে পারে প্রতিটি নিরীহ হৃদয়?
তাই মজলুম জনতা সপের্র মতো ফুসে ওঠে, সিংহের গর্জনে নেমে আসে রাজপথে;
স্লোগাণে স্লোগানে প্রকম্পিত হয় বাংলাদেশ
“এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই কবে যাবি?”
কেঁপে ওঠে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার মসনদ।
৫ই আগস্ট, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ;
বাংলাদেশের ইতিহাসে এলো অনন্য একটি দিন
জুলাই বিপ্লবের ছোঁয়াচে হাওয়া প্রতি ঘরে ঘরে
বিপ্লবী দূর্গ যেন বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার, পাড়া-মহল্লা, শান্ত গ্রাম, ব্যস্ত শহর-নগর;
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে দেশের প্রতিটি মুক্তিকামী জনগণ
নাহিদ, হাসনাত, সারজিস, আসিফদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়-
লং মার্চ গণভবন ঘেরাও কর্মসূচী
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝড়ো হাওয়ায় দুলছে পুরো বাংলাদেশ
মুক্তিকামী সর্বস্তরের জনতা সমুদ্রের বিশাল জলরাশির মতো
আছড়ে পড়ে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার ক্ষমতার মসনদে।
দিকে দিকে বিজয় ধ্বণিত হয়
গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার পদত্যাগ
ফ্যাসিস্ট হাসিনার পোষা সব গণমাধ্যমসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম শিরোনাম করে—
“বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ ছেড়ে পালালেন”
এক দাম্ভিক স্বৈরাচারীর পতন দেখে পুরো বিশ্ব
জনতার উল্লাসে প্রকম্পিত হয় বাংলাদেশের আকাশ বাতাস
মুক্তির মহা আনন্দে উদ্বেলিত অত্যাচারিত জাতি
এমন বিজয় বাঙালি কখনো দেখেনি, এ যেন পৃথিবীর বিস্ময়ের বিস্ময়।
ক্ষুব্ধ জনতা মেতে ওঠে মহা উল্লাসে
অজস্র মানুষ ঢুকে পড়ে গণভবনে মুছে ফেলতে চায় যত স্মৃতিচিহ্ন খুনি হাসিনার।
হ্যাঁ; আমি বলছি ৫ই আগস্ট, ২০২৪’র কথা;
শহরের মোড়ে মোড়ে অফিস চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা
হাসিনা পিতা শেখ মুজিবের অসংখ্য ভাস্কর্য ভেঙে দেয় বিপ্লবী জনতা।
ইতিহাস কথা বলে—
ওরা ক্ষমতায় আসে কেড়ে নিতে স্বাধীনতা
চেতনার নামে করে লুটপাট দমন করে আছে যত ভিন্নমত
ওরা চলে বাকশালী কৌশলে সবই আছে ওদের ছকে বাঁধা নিয়মে
চালাও হত্যা, করো গুম যে করবে স্বৈরাচারী হাসিনার বিরোধিতা।
ওরা ছিলো নিশি ভোটের স্বৈরাচারী সরকার
ওরাই দেশের সত্যিকারের রাজাকার
গণতন্ত্র হরণ করে দিয়েছিলো পাতানো নির্বাচন বারবার।
ওরা কব্জা করে নেয় প্রশাসন, চালায় খেয়াল খুশির প্রহসন;
ওরা গণতন্ত্রের নামে স্বৈরাচার দুশমন, খুব বুঝেছে বাংলার জনগন
তাই জেগে উঠেছিলো বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা
স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে আমার দেশের স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা, আহারে আমার প্রিয় স্বাধীনতা!
বোঝেনি বাঙালি মুজিব কন্যার ছলাকলা
ওরা রক্ষকের নামে ভক্ষক; চেতনার নামে রাহু, রাক্ষস
ওরা লুটেরা, দেশের শত্রু, দেশদ্রোহী
এটা বুঝতে এখন আর কারো রইলো না বাকী।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা—
শহীদের রক্ত আর মা-বোনের সম্ভ্রমে পাওয়া।
মুজিব-হাসিনার শাসনে-
স্বাধীন বাংলাদেশ ভরে যায় ভারতীয় আগ্রাসনে।
আমরা নিজ দেশে পরবাসী এই কি সহজে মেনে নিবে দেশবাসী?
আমরা বাংলাদেশি ভুলে যাবো কি মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ এর দিনগুলি?
তাই কি হয়?
না, না, না! আর না...
২০২৪’র স্মার্ট যোদ্ধা, জেন-জি, সুপার হিরোরা জেগে ওঠে
গণহত্যাকরী খুনি হাসিনার মসনদ গুড়িয়ে দেয়
আবার স্বাধীনতা ফিরে পায় বাঙালি
আমাদের প্রতিটি ভোরের নতুন সূর্য এখন-
শহীদ আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, ফারহান, ইয়ামিন, মুগ্ধদের কথা বলে।
আমারা এখন স্বাধীন
নতুন করে স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি
হয়েছি আমরা স্বৈরাচার মুক্ত স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক
তাইতো ২০২৪’র মুক্তিযুদ্ধে আহত ও শহীদ শত সহস্র ভাই-বোনদের কখনো ভুলবো না
তোমাদের প্রতি অকুণ্ঠ চিত্তে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।