খান নজম-ই-এলাহি
২৪ এপ্রিল, ২০২৬, 11:21 PM
জাগো মুসলিম, জাগো
“সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে
সব যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেছে
পৃথিবীর মানুষের সাহায্য ফুরিয়ে গেছে
এখন, হে আল্লাহ্ তুমি ছাড়া আর কেউ নেই!
হে আল্লাহ্, তারা নিজেদের শক্তির উপর গর্ব করে
আর আমরা তোমার শক্তির মাধ্যমে
তাদের উপর বিজয়ের প্রার্থনা করি!
হে ইসলামের অনুসারীরা! ইসলামের অনুসারীরা!
তোমাদের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি!”
ফিলিস্তিনের মসজিদ থেকে কাতর কণ্ঠের এই উদাত্ত আহ্বান যেন
মহাবিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধ্বনি-প্রতিধ্বনিত হয়ে আমাদের কানে বারবার ফিরে আসছে!
তবুও আমাদের নিশ্চুপ নিরবতা!
এ যেন ইসরাইলের ঐ কাফিরদের পক্ষে মৌন সমর্থন;
আমরা কেমন মানুষ? এ কেমন মুসলিম! এই কি আমাদের মানবতা?
ইয়া আল্লাহ্ আমাদের ক্ষমা করুন! ক্ষমা করুন!
হে মুমিন,
এখনো অপেক্ষা তোমার কঙ্কর নিক্ষেপকারী আবাবিলের
তুমি প্রতীক্ষায় আছো ইসরাইলের ধ্বংস দেখতে
যেমন ইয়ামেনের আবরাহা বাদশার অন্তিম পরিণতি বর্ণিত আছে পবিত্র আল কুরআনে
ভুল, এ অপেক্ষা তোমার প্রতি শয়তানের কুমন্ত্রণা;
এ তো তোমার দুর্বল ঈমানের পরিচয়।
হে মুমিন,
তুমি কি ভুলে গেছো বদর যুদ্ধের ইতিহাস? মুসলিমদের বিজয়ের কথা;
এখনই জেগে ওঠো, তোমরাই আবাবিল হয়ে যাও;
পৃথিবীর চতুর্দিক থেকে দলে দলে বের হও
ঘিরে ফেল ইসলাম বিদ্বেষী সব নির্যাতনকারী দখলদারদের
এখনই জেগে ওঠো! রুখে দাঁড়াও! রুখে দাঁড়াও প্রিয় মুমিন মুসলিম!
নিশ্চয়ই মহান রবের সাহায্য পাবে; ইনশা’আল্লাহ্! মহান রবের সাহায্য পাবে।
হে মুমিন মুসলিম, তুমিই মুজাহিদ;
শয়তান, কাফির, মুশরিক আর বাতিলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ মৃত্যু দূত
যদি না হও মুজাহিদ ঈমান হারিয়ে ছুটবে তুমি দিক্বিদিক
দেখবে সত্যি আসছে আবাবিল ঝাঁকে ঝাঁকে, বৃষ্টি কঙ্কর তোমার মাথায় পড়বে ঝরে;
শয়তানের অনুসারী হয়ে হয়রান হতে হবে ঐ কঠিন রোজ হাশরে।
হে মুসলিম, তুমি বীর, তুমি মুজাহিদ;
তুমিতো আল্লাহ্র প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদ (সঃ) এর আদর্শের সৈনিক
তুমি কি ভুলে যাবে সেই ফোরাতের তীর; কারবালা প্রান্তরের রক্তঝরা হৃদয়বিদারক ঘটনা?
তোমাকে হতে হবে ইসলামে অবিচল নিবেদিত প্রাণ
যেমন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) করেছিলেন শাহাদাত বরণ।
হে মুসলিম,
তুমি কি ভুলে গেছো কুফরি শক্তি নিধনের যমদূত হযরত উমর (রাঃ) এর কথা?
তুমি কি ভুলে যাচ্ছ ইসলামের সিংহ পুরুষ হযরত আমির হামজা (রাঃ) এর গভীর আত্মত্যাগ?
হে মুসলিম, মনে কি নেই তোমার;
মুসলিম বীর খালিদ বিন ওয়ালিদ, মুহাম্মাদ বিন কাসিম এবং সালাহ উদ্দিন আইয়ূবীকে?
বল মুসলিম, বল; জবাব দাও!
তুমি কি আজ ভুলে যেতে বসেছ তারিক বিন জিয়াদ, সুলতান মাহমুদ গজনবী
এবং ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজির মতো বীর মুজাহিদদের বীরত্বের ইতিহাস?
হে মুসলিম,
আমরা সত্যি ভুলে গেছি আমাদের অতীত ঐতিহ্য
অনেকটা সরে এসেছি জ্ঞান-বিজ্ঞান আর ধর্ম চর্চা থেকে
তাই বিশ্ব মুসলিম আজ নির্যাতিত, পদে পদে লাঞ্চিত।
কুফরি শক্তি জোটবদ্ধ হয়ে নেমেছে মুসলিম নিধনে
এখনই আমাদের জেগে উঠতে হবে
বলীয়ান হতে হবে জ্ঞান-বিজ্ঞান আর আধুনিক সামরিক শক্তিতে
ইসলাম বিরোধী সব কুটিল ষড়যন্ত্রের নীল নকশা রুখে দিতে হবে।
হে মুসলিম, এখনো তুমি মৌনতা অবলম্বন করবে?
জেনে রেখো, আমাদের এই কাপুরুষতা আর নির্মম পাথর নিরবতা
ফিলিস্তিনের নিষ্পাপ শিশুরা নিশ্চয়ই বলে দিবে মহান আল্লাহ্র কাছে
রেহাই হবে না কোন ভাবে সেদিন বিচার দিবসে।
আমরা গর্বিত আশরাফুল মাখলুকাত, সভ্য দুনিয়ার মানুষ;
তবে এখনো কেন ফিরছে না আমাদের হুঁশ?
অন্তর জুড়ে বর্বর পশুত্ব আজ, হয়েছি এক একজন মানব থেকে হিংস্র দানব;
ছিঃ ধিক! ধিক এই অমানবিক কথিত সভ্যতাকে
ধিক এই আধুনিকতার কপালে; অন্যায়ের প্রশ্রয়ে যারা খোঁড়া যুক্তি আনে।
হে মানুষ,
ন্যায়ের প্রশ্নে এখনো তোমরা বোবা, প্রতিবাদহীন;
টেনে হিঁচড়ে সভ্যতাকে বার বার মুড়ে দিচ্ছ অসভ্যতার শৈল্পিক চাঁদরে
কোথায় আজ সভ্য সমাজের বিশ্ব মোড়লেরা?
কোথায় গেল আপনাদের মানবতা?
না, আপনারা মানুষ না; আপনারা মানুষ নামে দোপেয়ে দৈত্য
ফিলিস্তিনের শিশুদের শুধু ভয় দেখাতে জানেন, জীবন কেড়ে নিতে জানেন;
আর কত মৃত্যু নিয়ে খেলবেন? আর কত?
হে উন্নত বিশ্ব, কথিত সভ্য পৃথিবীর মানুষ;
আজ জেনে রাখুন আপনারা,
ফিলিস্তিনের মায়েদের গর্ভে জান্নাতের শিশুদের জন্ম হয়;
ওখানে এখন প্রসব বেদনায় কাতর মায়ের অপেক্ষা থাকে সন্তানের একটি অন্তিম ঘুমের
কারণ ফিলিস্তিনে হুট করেই মৃত্যু আসে, শহীদি মৃত্যু;
এই আধুনিক বুলেট, বোমার আঘাতে মা ও শিশুর দেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পাওয়া যায় অগণিত বিচ্ছিন্ন কচি সোনা হাত
এভাবেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয় ফিলিস্তিনের এই জান্নাতের পাখিরা।
হে উন্নত বিশ্ব,
এতো অত্যাচার, এতো রক্ত বন্যা, এতো ধ্বংস;
তবুও ফিলিস্তিনিরা মৃত্যু ভয়ে ভীত নয়
দেশপ্রেমিক ওঁরা, ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান;
মায়ের গর্ভ থেকে প্রত্যেকেই হয়ে উঠে এক একজন মুজাহিদ;
শাহাদাতের তামান্না নিয়ে এগিয়ে যায় কালেমার পতাকা হাতে
বীরত্ব ও ত্যাগে স্বাক্ষর রাখে পৃথিবীর বুকে
কখনোই মাথা নত করে না ঐ দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর কাছে।
আজ, আজ আমি শোকে বিহ্বল;
আমার কণ্ঠস্বর দুঃখ ভারাক্রান্ত, বুকের ভিতর করুণ আর্তনাদ;
আমার এই সজল চোখ ফিলিস্তিনের মজলুম মানুষের জন্য
গাজা, রাফাহ আজ যুদ্ধ বিধ্বস্ত;
গণহত্যায় মেতে উঠেছে বর্বর ইহুদী সৈন্য
আমাদের ভাই বোনদের নির্বিচারে শহিদ করা হচ্ছে
বোমার আঘাতে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে উড়ে যাচ্ছে শিশুর কোমল দেহ।
ওরা নরপিশাচ, নারী ও শিশু হত্যা ওদের নেশা;
ওরা ভীত, আগামীর অস্তিত্ব সংকট ওদের চোখে মুখে;
ওরা ভবিষ্যতের প্রতিরোধ শক্তি নির্মূল করতে চায়
না, এটা কোন যুদ্ধ নয়;
আমি আবারো বলছি, এটা কোন যুদ্ধ নয়;
ওরা যুদ্ধনীতি ও মানবাধিকার বারবার লঙ্ঘন করছে
ফিলিস্তিনের মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করতে চালাচ্ছে পরিকল্পিত ভয়াবহ গণহত্যা
তবুও বিশ্ব মানবতা আজ ঘুমিয়ে, এ যেন অন্তিম ঘুম;
আর জাগবে না তাঁদের বিবেক, বলবে না কোন নীতি বাক্য-মানবতার কথা।
সেই সাথে নিশ্চুপ আজ প্রায় দু’শ কোটি মুসলিম
কোথায়? কোথায় আজ মুসলিম বিশ্বের নেতারা?
ধিক! ধিক তোমাদের এ নিরবতা!
হে মুসলিম বিশ্ব,
তোমরা কি ভুলতে বসেছ! ফিলিস্তিনেই আমাদের বাইতুল মুকাদ্দাস;
মসজিদ-আল-আকসা যে নামেই হোক ডাকা;
আমাদের প্রথম কিবলা, মহান আল্লাহ্র কুদরতি পায়ে সিজদা।
হে মুসলিম বিশ্ব,
তোমরা কি ভুলে গেছ!
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর শবে মেরাজের সেই মহিমান্বিত ইতিহাস?
মসজিদুল হারাম থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস গমন
অতঃপর বিস্ময়কর ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ।
হে মানুষ, হে মুসলিম, হে মুমিন তোমরা জেগে ওঠো
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ো
জাগো মুসলিম, জাগো! তোমরা জেগে ওঠো!
এখনই সময় দখলদার দুশমন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার
ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য ভূমি- অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা, রাফা মুক্ত করার;
জাগো মুজাহিদ, জাগো!
তোমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে জিহাদ করো
মহান আল্লাহ্কে ভয় করো, পাশে দাঁড়াও নির্যাতিত ফিলিস্তিনের;
যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দাও!
তোমাদের হুংকারে প্রকম্পিত হোক সারা বিশ্ব
জাগো মুসলিম, জাগো; দিকে দিকে আওয়াজ তোল-
“মুসলিম বিশ্ব ঐক্য গড়ি, ফিলিস্তিন স্বাধীন করি”
“ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি”
ইনশা’আল্লাহ্!