ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
সুশাসনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে পেশাজীবী দলের আলোচনা সভা ফজলুল হক মিলন এমপিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে এলাকাবাসীর অভিনন্দন বটিয়াঘাটায় নদী থেকে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার পীরগঞ্জে প্রাচীন মসজিদ সংরক্ষণের দাবী এলাকাবাসীর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে বর্ণ্যাঢ্য র‌্যালী ও পথসভা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেয়া প্রতিশ্রুতির জমি রক্ষায় দিন মুজুরের মানববন্ধন ছয় পেরিয়ে সপ্তম বর্ষে আর.ডি.ডি.সি ভোলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২ কুড়িগ্রামে ২২৫ পিস ইয়াবাসহ আটক নয়ন মিয়ার ৭ বছরের কারাদণ্ড

‎ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মানবতার মুক্তির মহাসনদ

#

বিপ্লব চৌধুরী (বিশেষ প্রতিনিধি)

২৮ আগস্ট, ২০২৬,  7:19 PM

news image

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত স্মরণের দিন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও তাঁর মহান জীবনা দর্শকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে এই দিন আমাদের সামনে মানবতা, ন্যায়, সত্য, শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বের অনন্য শিক্ষা তুলে ধরে। তিনি শুধু একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন।

‎মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।” এই বাণীর মধ্যেই মহানবী (সা.)-এর আগমনের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। তাঁর জীবন ছিল অসহায় মানুষের আশ্রয়, নিপীড়িতের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো এবং মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

‎রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক সময়ে আরব সমাজে আবির্ভূত হন, যখন অজ্ঞতা, গোত্রীয় হিংসা, অন্যায়, বৈষম্য ও নানা সামাজিক অনাচার মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তিনি তাঁর অসাধারণ চরিত্র, প্রজ্ঞা ও ন্যায়বোধের মাধ্যমে সেই সমাজে আমূল পরিবর্তনের সূচনা করেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন—মানুষের মর্যাদা তার বংশ, সম্পদ বা ক্ষমতায় নয়; বরং তার চরিত্র, তাকওয়া ও ন্যায়পরায়ণতায়।

‎মহানবী (সা.)-এর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো সত্য ও আমানতদারিতা। নবুয়ত লাভের আগেই তিনি ‘আল-আমিন’—বিশ্বস্ত ও আমানতদার—হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আজকের সমাজে যখন মিথ্যা, প্রতারণা, দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও বিশ্বাসভঙ্গ নানা সংকট সৃষ্টি করছে, তখন মহানবী (সা.)-এর আদর্শ আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পথনির্দেশ হতে পারে।

‎তিনি প্রতিবেশীর অধিকার, এতিমের অধিকার, নারীর মর্যাদা, শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা, দরিদ্রের প্রতি দায়িত্ব এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে। এই শিক্ষা শুধু ধর্মীয় বক্তব্য নয়—এটি একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ নির্মাণের মৌলিক নীতি।

‎ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রকৃত শিক্ষা তাই শুধু আলোচনা, সভা, শোভাযাত্রা বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সর্বোত্তম প্রকাশ হলো তাঁর সুন্নাহ ও চরিত্রকে নিজের জীবনে ধারণ করা। আমরা যদি সত্য কথা বলি, অন্যের অধিকার রক্ষা করি, অসহায়ের পাশে দাঁড়াই, অন্যায় থেকে বিরত থাকি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করি—তবেই তাঁর আদর্শ অনুসরণের বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যাবে।

‎আজ পৃথিবী নানা সংকটে জর্জরিত। যুদ্ধ, হিংসা, বৈষম্য, নৈতিক অবক্ষয় ও পারস্পরিক বিদ্বেষ মানুষের শান্তিকে বিপন্ন করছে। এমন সময়ে মহানবী (সা.)-এর ক্ষমা, সহনশীলতা, দয়া, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর বিদায় হজের ভাষণে মানুষের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক অধিকার সম্পর্কে যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা মানবসভ্যতার জন্য আজও এক অনন্য নৈতিক নির্দেশনা।

‎ঈদে মিলাদুন্নবী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একজন মহান মানুষের জন্ম কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; তাঁর আদর্শ অনুসরণ করাই সেই জন্মের প্রকৃত তাৎপর্যকে জীবন্ত করে রাখা। তাই এই পবিত্র দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক—মিথ্যার পরিবর্তে সত্য, ঘৃণার পরিবর্তে ভালোবাসা, অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায়, বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য এবং স্বার্থপরতার পরিবর্তে মানবসেবাকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা।

‎মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন আমাদের জন্য শুধু ইতিহাস নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন। তাঁর আদর্শে ব্যক্তি গড়ে উঠলে পরিবারে শান্তি আসবে, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং রাষ্ট্রে মানবিকতা শক্তিশালী হবে।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন