নিশাত শাহরিয়ার
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 3:30 AM
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় নামবিহীন আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহ ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য
রাজধানীর শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের পাশে অবস্থিত একটি নামবিহীন আবাসিক হোটেলে নারীদের জিম্মি করে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা, মাদক বাণিজ্যসহ নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের অবাধে যাতায়াতের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং বাড়ির মালিক জানান, শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের পাশে অবস্থিত পূর্ব শেওড়াপাড়ায় সাদির কমপ্লেক্সের ৫ম তলায় নামবিহীন একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন থেকে নারীদের জিম্মি করে দেহ ব্যবসা, মাদক বাণিজ্যসহ নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন একটি নাম পরিচয়হীন আবাসিক হোটেলে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরো জানা যায়, আবাসিক হোটেলটির মালিকানায় মারুফ নামে এক ব্যক্তি রয়েছেন যিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দলটির উচ্চ পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীর সাথে যোগাযোগ রেখে রাজধানীতে দেহ ব্যবসার এক অভয়ারণ্য জগৎ গড়ে তুলেছেন। দেহ ব্যবসায়ী মারুফ 01833- 44 40 47 এই নাম্বারে সব সময় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ করেন বলে জানায় হোটেলটির ম্যানেজার মো: সিদ্দিক।
পরিচয় গোপন রেখে হোটেলের ম্যানেজার সিদ্দিক ( সিদ্দিকের মোবাইল নাম্বার- 01731-855921 ) এর সাথে কথা বলে জানা যায়, এই হোটেলটির মালিকানায় মারুফসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন। তবে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের লোকজন পালিয়ে যাওয়ায় সার্বিক দেখভাল করছেন মারুফ। আত্বগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের লাভের অংশ প্রতি মাসে দিয়ে দেয়া হয় বলে জানান হোটেল ম্যানেজার সিদ্দিক। মারুফের নেতৃত্বে রাজধানীতে একটি বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে যারা বিভিন্ন হোটেলে নারী সাপ্লাইয়ের ব্যবসার সাথে জড়িত-এমনটাই জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোটেলের এক কর্মচারী।
এদিকে, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় নাম পরিচয়হীন এই হোটেলটির বিরুদ্ধে দেয়া লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এসআই ইউসুফের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম (৮ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলটিতে অভিযান পরিচালনা করে। তবে আগেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় হোটেলে অবস্থানকারীরা। অপরাধীদের খোঁজে কাউকে না পেয়ে কাফরুল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নামবিহীন এই হোটেলটিতে নিয়মিত রেজিস্ট্রার খাতা মেইনটেইন করা হয় না, হোটেলে আগতদের ভোটার আইডি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষন করা হয় না, ভ্যাট, ট্যাক্স নিয়মিত দেয়া হয় না, ট্রেড লাইসেন্সের জন্য দেয়া শর্তাবলী কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই মেনে চলে না, বিশেষ প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরায় ধারন করা ফুটেজ পাওয়া যায় না- এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে এই আবাসিক হোটেলটির বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অত্র এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামাঞ্চল থেকে কম বয়েসী দরিদ্র মেয়েদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে এই হোটেলে জিম্মি করে অবশেষে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয়। আর এসব কাজে দায়িত্ব পালন করে নারী দেহ ব্যবসায়ী মারুফের সিন্ডিকেটের সদস্যরা। সিন্ডিকেডের আরো কিছু সদস্য রয়েছে যারা আগত খদ্দেরদের চাহিদা অনুযায়ী মাদক সরবরাহ করে। অনেক সময় খদ্দেরদের কৌশলে বেশি পরিমানে মাদক সেবন করিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়া হয় বলেও জানান কয়েকজন বাসিন্দা।
এছাড়া, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন সারির নেতা-কর্মীদের এখানে অবাধ যাতায়াত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ব্যবিচারমুক্ত সমাজ গঠন এবং অত্র এলাকায় এমন অনৈতিক কর্মকান্ড প্রতিরোধে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।