ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিরপুরে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ লন্ডনে চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর হলেন মৌলভীবাজারের সাবিনা কুলাউড়ায় ডিআইজির নির্দেশনায় সড়কে অভিযানে মামলা ও যানবাহন জব্দ ‎হাজী জমিরউদ্দিন খান সড়কের বেহাল দশা ভোলার দৌলতখানে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ লাকসামে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক নারী করিমগঞ্জের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাঈদের মৃত্যু কালীগঞ্জে প্রধান শিক্ষিকার উদাসীনতায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সিয়াম বটিয়াঘাটায় গ্রাম আদালত বিষয়ক ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভূমি অফিসে হয়রানি নয় মিলবে দ্রুত সেবা: দিল আফরোজ

মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীরা হারিয়ে যাচ্ছে কালের গহ্বরে

#

বিপ্লব চৌধুরী (বিশেষ প্রতিনিধি)

১১ মে, ২০২৬,  4:32 AM

news image

এক সময় সমাজের দর্পণ বলা হতো মূলধারার গণমাধ্যমকে। সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের সাংবাদিকরা ছিলেন সত্য অনুসন্ধানের সাহসী সৈনিক। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতেন তারা।

মানুষের অধিকার, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতেন নির্ভয়ে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ সেই মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীরাই যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন কালের গহ্বরে।

‎ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে সংবাদ পরিবেশনের ধরনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে। যে কেউ মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে পারছে।

অথচ প্রকৃত সাংবাদিকতা কেবল ছবি বা ভিডিও ধারণের নাম নয় এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে তথ্য যাচাই, নৈতিকতা, দায়বদ্ধতা ও পেশাগত দক্ষতা। সেই জায়গায় মূলধারার সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে যে মান বজায় রেখেছিলেন, তা আজ নানা কারণে সংকটের মুখে।

‎বর্তমানে অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। বিজ্ঞাপন নির্ভর সংবাদমাধ্যমগুলো টিকে থাকার জন্য হিমশিম খাচ্ছে। ফলে একের পর এক সংবাদপত্র বন্ধ হচ্ছে, টেলিভিশনে কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে, আর সাংবাদিকরা হারাচ্ছেন তাদের কর্মস্থল।

দীর্ঘদিন পেশায় থাকা অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীরাও আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন, কেউ ব্যবসায়, কেউ প্রবাসে, আবার কেউ সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন।

‎সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এখন সাংবাদিকতার চেয়ে “ভিউ” ও “ভাইরাল” হওয়ার প্রতিযোগিতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ প্রকাশ করছে। এতে ভুয়া তথ্য, গুজব ও অপসাংবাদিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অথচ মূলধারার সাংবাদিকরা এখনও নীতিমালা মেনে কাজ করতে চান বলেই অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছেন। সত্য প্রকাশের জন্য যে ধৈর্য, গবেষণা ও দায়িত্ববোধ দরকার, তা এখন অনেকের কাছেই অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে।

‎এক সময় সংবাদকর্মীদের সমাজে বিশেষ সম্মান ছিল। একটি সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রশাসনের টনক নড়ে যেত। সাংবাদিকরা ছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা।

কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে সেই সম্মান ও বিশ্বাসও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক বিভাজন, করপোরেট প্রভাব এবং পেশাগত অনিরাপত্তা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে সংকুচিত করেছে। ফলে অনেক প্রকৃত সংবাদকর্মী নীরবে হারিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তাদের জায়গা দখল করছে অদক্ষ ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী।

‎মূলধারার সাংবাদিকদের হারিয়ে যাওয়া শুধু একটি পেশার সংকট নয়; এটি গণতন্ত্র ও সমাজের জন্যও বড় হুমকি। কারণ শক্তিশালী গণমাধ্যম ছাড়া রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা দুর্বল হয়ে পড়লে দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়ে যায়। জনগণও বঞ্চিত হয় নির্ভরযোগ্য তথ্য থেকে।

‎এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্র, গণমাধ্যম মালিক ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে অপসাংবাদিকতা রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োগ করতে হবে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমকে আরও আধুনিক ও জনমুখী করে তুলতে হবে।

‎মনে রাখতে হবে, প্রকৃত সাংবাদিকতা কখনও হারিয়ে যায় না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যারা কাজ করেন, ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তাদেরই মনে রাখে। তাই মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের টিকিয়ে রাখা মানে সত্যভিত্তিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রক্ষা করা।

আজ সময় এসেছে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের মূল্যায়ন করার নইলে একদিন সত্যের কণ্ঠস্বরই হারিয়ে যাবে কালের অতল গহ্বরে।