ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিরপুরে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ লন্ডনে চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর হলেন মৌলভীবাজারের সাবিনা কুলাউড়ায় ডিআইজির নির্দেশনায় সড়কে অভিযানে মামলা ও যানবাহন জব্দ ‎হাজী জমিরউদ্দিন খান সড়কের বেহাল দশা ভোলার দৌলতখানে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ লাকসামে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক নারী করিমগঞ্জের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাঈদের মৃত্যু কালীগঞ্জে প্রধান শিক্ষিকার উদাসীনতায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সিয়াম বটিয়াঘাটায় গ্রাম আদালত বিষয়ক ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ভূমি অফিসে হয়রানি নয় মিলবে দ্রুত সেবা: দিল আফরোজ

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিরপুরে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

#

ফয়সাল আহমেদ অনন্ত

১৩ মে, ২০২৬,  3:42 AM

news image

টেস্ট ক্রিকেট যেন ধৈর্য, নাটক আর অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ কবিতা। পাঁচ দিনের গল্পে কখনও আলো ঝরে এক দলের মুখে, কখনও অন্য দল ফিরে আসে দৃপ্ত প্রত্যয়ে।

কিন্তু শেষ বিকেলের কয়েকটি মুহূর্তই বদলে দেয় পুরো কাহিনি। মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্টও ঠিক তেমন এক রোমাঞ্চের মহাকাব্য হয়ে রইল।

চা বিরতি পর্যন্ত ম্যাচ যেন ড্রয়ের দিকেই ধীরে ধীরে হাঁটছিল। সৌদ শাকিল আর রিজওয়ানের ব্যাটে পাকিস্তান বাঁচার স্বপ্ন দেখছিল। গ্যালারিতেও তখন অপেক্ষার নীরবতা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের শেষ বিকেল যে সবসময়ই নিজের জন্য কিছু বিস্ময় জমিয়ে রাখে। সেই বিস্ময়ের নাম নাহিদ রানা।

হঠাৎ করেই আগুন ছড়াতে শুরু করল তার গতি। একের পর এক ডেলিভারি ছুটে গেল বজ্রের মতো। পাকিস্তানের ব্যাটাররা যেন শুধু বল নয়, সময়ের সঙ্গেও লড়ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই গতির সামনে হার মানতেই হলো তাদের।

ড্রয়ের স্বপ্ন ভেঙে পাকিস্তানের ব্যাটাররা ফিরলেন প্যাভিলিয়নের পথে, আর মিরপুর ভেসে গেল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা।

এই জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে শুরুটা নড়বড়ে হলেও ক্রিজে দাঁড়িয়ে এক অন্যরকম ধৈর্যের গল্প লিখেছিলেন মুমিনুল হক। সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে ৯১ রানে থামলেও তার ইনিংস ছিল এক অনবদ্য লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।

অন্য প্রান্তে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত খেলেছিলেন নেতৃত্বের মতোই পরিণত এক শতরানের ইনিংস। মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞ ব্যাট, লিটনের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস আর তাসকিনের সাহসী রান মিলিয়ে বাংলাদেশ দাঁড় করায় ৪১৩ রানের পাহাড়।

জবাবে পাকিস্তানও লড়েছে সমান তালে। আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরি, সালমান আগা ও রিজওয়ানের দৃঢ়তা ম্যাচকে এনে দেয় অন্য এক উত্তেজনায়।

তবে বল হাতে তখনও বাংলাদেশের নীরব নায়ক হয়ে উঠছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে থেমে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসে বৃষ্টিভেজা মিরপুরে আবারও ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন মুমিনুল ও শান্ত। তাদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ ঘোষণা দেয় ২৪০ রানে। সামনে রেখে যায় লড়াইয়ের লক্ষ্য, আর শেষ দিনের জন্য জমিয়ে রাখে নাটকের শেষ অধ্যায়। সেই অধ্যায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নাহিদ রানা।

তার গতির সামনে শেষ বিকেলে পাকিস্তান যেন পথ হারানো এক বহর। স্টাম্প ভাঙার শব্দে, উচ্ছ্বাসে আর গ্যালারির গর্জনে মিরপুর তখন শুধুই বাংলাদেশের।

শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানেই থেমে যায় পাকিস্তান। আর বাংলাদেশের ক্রিকেট লিখে ফেলে আরেকটি স্মরণীয় দিন। ম্যাচসেরা হন অধিনায়ক শান্ত, কিন্তু শেষ বিকেলের আকাশজোড়া আলোটা যেন ছিল নাহিদ রানার নামেই।