নিশাত শাহরিয়ার
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:44 AM
বাংলাদেশ বেতারে আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের পুনর্বাসনে ঐক্যবদ্ধ কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী শাসনামলে বাংলাদেশ বেতার ছিল আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী দোসরদের অভয়ারণ্য। বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত অতি উৎসাহী কয়েকজন আওয়ামী ঘরানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরকারি এই প্রচার মাধ্যমটিকে ব্যবহার করেছেন নিজেদের ইচ্ছেমতো।
ভিন্ন মতাদর্শের কাউকে পেলেই তাকে নিষিদ্ধ করা হতো লিখিত কিংবা অলিখিত আদেশে। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সঙ্গীত শিল্পী এমনকি সংবাদ পাঠক-পাঠিকাও বাদ যায়নি বেতারে কর্মরত কতিপয় অফিসারের রোশানল থেকে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও দীর্ঘদিনের আওয়ামী পিরিতি এখনো ধরে রেখেছেন বেতারে কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তা। তাদের কারণেই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকা থেকে শুরু করে সংগীতশিল্পীরা এখনো বেতারে অনুষ্ঠান করে চলেছে নির্দ্বিধায় নির্বিঘ্নে।
অথচ আওয়ামী শাসনামলে গঠনমূলক সমালোচনা করেও রক্ষা পায়নি অনেক উপস্থাপক-উপস্থাপিকা, শিল্পী এবং কলাকুশলী। সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক পরিচিত ও গুণী সঙ্গীতশিল্পী বেবী নাজনীন, কনক চাঁপা, ন্যান্সি, আসিফ আকবরসহ অনেক সঙ্গীত শিল্পীকেই বাংলাদেশ বেতার নিষিদ্ধ করে রেখেছিল দীর্ঘ সময়ের জন্য।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বিগত সময়ে যারা আওয়ামী সুবিধাভোগী ছিল তাদেরকেই পুনরায় বাংলাদেশ বেতারে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে বেতারের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। যাদের মধ্যে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সাথে ছাত্র হত্যাচেষ্টা মামলায় ছয় নাম্বার আসামি। অফিসারদের মধ্যে এমন আরো রয়েছে যারা বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন বিগত দিনে হাসিনা সরকারের পা চাটার কারণে।
জানা যায়, ২৭ জানুয়ারি, মঙ্গলবার (২০২৬) বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাংলাদেশ বেতারের রকমারি গানের আয়োজনে তৃতীয় পালায় আওয়ামী ঘনিষ্ঠ সংগীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নির গাওয়া গান বাজানো হয়।
এর আগে, বাংলাদেশ বেতারের হোম সার্ভিসের ডিসপ্লে বোর্ডে দিনাত জাহান মুন্নির ছবিও লাগানো হয়। তবে তীব্র আপত্তির মুখে যদিও তা কিছু সময় পরে তুলে ফেলা হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।
বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ আওয়ামী দোসর ও ঘনিষ্ঠদের পুর্নবাসনে উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। আওয়ামী ঘনিষ্ঠ বেতারের সাবেক কর্মকর্তারা এখনো বেতারে আসেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন নিয়মিত।
বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে শঙ্কায় দিন পার করছেন উপস্থাপক-উপস্থাপিকা থেকে শুরু করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী কলাকুশলীরা। বেতার কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং জুলাইযোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে এই বিষয়টি নিয়ে অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকা থেকে শুরু করে সংগীত শিল্পীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একের পর এক আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের পুনর্বাসনে বেতারের এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায়না।
এ ব্যাপারে বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তারা। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল, ইনকিলাব মঞ্চ, বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধাদের এ ব্যাপারে কঠিন এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বিপ্লবী ছাত্র-জনতাসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অতি উৎসাহী আওয়ামী ঘরানার এই বেতার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠিন এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন জুলাইয়ের চেতনায় বিশ্বাসীরা।