নিশাত শাহরিয়ার
২২ জুন, ২০২৬, 11:39 PM
বাংলাদেশ বেতারের দেয়াল ঘেঁষে গড়ে উঠা দোকানে উচ্ছেদ অভিযান
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বেতার ভবনের দেয়াল ঘেঁষে গড়ে উঠা দোকানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে শেরেবাংলা থানা পুলিশ।
সোমবার (২২জুন) বিকেলে শেরেবাংলা থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৩০টির বেশি দোকান বেতারের সীমানা প্রাচীর থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। বেতারের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে উঠা ভাতের হোটেল, চায়ের দোকান, ভাঙ্গারী পন্য ব্যবসার দোকান, রিকসা মেকারের দোকান, ডাবের দোকানসহ বিভিন্ন দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে উচ্ছেদ অভিযানের ভিডিও ও ছবি তুলতে গেলে এই প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বেতারের সীমানা প্রাচীর ঘিরে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী এক নারী। তার সাথে আরো কয়েকজন নারী-পুরুষ যুক্ত হয়ে মারমুখী আচরণ করে। এক পর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ওই নারী। যেকোন সময় একা পেলেই হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হবে বলে এই প্রতিবেদককে হুমকি দেয়া হয়।
এছাড়া বেতারের বিপরীত পাশে অবস্থিত নিউরো সাইন্স ইন্সটিটিউটের সামনে ফুটপাতসহ মূল সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদের ছবি তোলা এবং ভিডিও করতে গেলে ডাব ব্যবসায়ী এক মহিলা আপত্তিকর ভাষায় এই প্রতিবেদককে গালিগালাজ করে এবং হাত পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেয়। তার সাথে আরো একজন মহিলা যোগ দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। তবে ফুটপাত দখল রোধে নিয়মিত এমন অভিযান চলমান থাকবে বলে পুশিশের পক্ষ থেকে জানানো। তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন করে। ফুটপাত দখল রোধে নিয়মিত এমন অভিযান চলমান থাকবে বলে পুশিশের পক্ষ থেকে জানানো।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময়ে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের যোগসাজসে বেতারের সীমানা প্রাচীর, ফুটপাত এবং মূল সড়কের জায়গা দখল করে বিভিন্ন ধরনের দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে আসছে আওয়ামী লীগের কর্মী, সমর্থক এবং ইনফরমাররা। তারা এই জায়গাটি একেবারে জিম্মি করে রেখেছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দারা।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের আগে শেরেবাংলা থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেকোন অনিয়ম কিংবা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। পুলিশের একটি টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। এরপর শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের একটি টিম এসআই জাকিরের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।
বাংলাদেশ বেতারের মতো একটি প্রথম শ্রেনীর কেপিআই এলাকার সীমানা প্রাচীর ঘিরে দোকানপাট গড়ে উঠার বিষয়ে জানতে চাইলে বেতারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, এসব অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য একাধিকবার শেরেবাংলা থানা কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বেতারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষ সব সময় সজাগ রয়েছে বলে জানান তিনি।