বিপ্লব চৌধুরী (বিশেষ প্রতিনিধি)
০৩ মার্চ, ২০২৬, 11:59 PM
গাইবান্ধা সদরে সড়ক সংস্কারে অনিয়ম
উন্নয়ন মানেই কি কেবল কাজের নামফলক ও তড়িঘড়ি উদ্বোধন? নাকি পরিকল্পনা, মান ও স্বচ্ছতার সমন্বয়েই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব—এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর থেকে সুধাংশু ঘোষের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ ঘিরে ওঠা অভিযোগে।
দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ এলাকাবাসীর জন্য আশার আলো ছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পরই সেই আশায় ফাটল ধরেছে। নকশা অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে মাটি ভরাট করে ফুটপাত নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। কোথাও এক ফুট, কোথাও দুই ফুট—এই অসম ও অপর্যাপ্ত ভরাট শুধু অব্যবস্থাপনাই নয়, এটি সরাসরি পরিকল্পনা লঙ্ঘনের শামিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সড়কের প্রস্থ সংকোচন। পূর্বে যেখানে সড়কের প্রস্থ ছিল প্রায় তিন মিটার, সেখানে বর্তমান সংস্কারকাজে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই ফুট প্রস্থ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হলো—কার অনুমতিতে এই পরিবর্তন? নকশা সংশোধনের কোনো সরকারি আদেশ কি আছে? নাকি এটি কেবল ঠিকাদারি সুবিধার জন্য নেওয়া একতরফা সিদ্ধান্ত?
সড়ক উন্নয়নের নামে যদি সড়কই সংকুচিত হয়, তবে সেটি উন্নয়ন নয়—বরং ভবিষ্যৎ সংকটের বীজ বপন। প্রস্থ কমানোর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই আবারও সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দেবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় এবং জনদুর্ভোগ—দুটোই অনিবার্য।
এখানে শুধু ঠিকাদারের দায় দেখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল বিভাগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। নিয়মিত তদারকি থাকলে নকশা বহির্ভূত এই কাজ কীভাবে চলতে পারে?
উন্নয়ন প্রকল্প মানেই যেন এক অদৃশ্য সিন্ডিকেট—ঠিকাদার কাজ কমিয়ে লাভ বাড়াবে, তদারককারী নীরব থাকবে, আর ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ। এই চক্র ভাঙতে হলে কেবল তদন্ত নয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি।
এই সম্পাদকীয়র মাধ্যমে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি—নকশা অনুযায়ী পূর্ণ প্রস্থ ও নির্ধারিত ফুটপাত নিশ্চিত করতে হবে, কাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
নইলে উন্নয়নের নামে এমন সংকোচন আস্থার সংকট আরও গভীর করবে।উন্নয়ন হোক মানুষের জন্য, মানুষের বিপক্ষে নয়—এই বোধ থেকেই আজ প্রশ্ন তোলা জরুরি।