রকিবুল ইসলাম আফ্রিদি
১৫ নভেম্বর, ২০২৫, 9:13 PM
সংগীতাঙ্গনের নতুন মুখ মনিকার স্বপ্নের ডানা মেলে পথ চলা
বাংলাদেশের সংগীতজগতে নিয়মিতই নতুন মুখ আবির্ভূত হচ্ছে। সেই নতুন প্রজন্মের মাঝে নিজের স্বতঃস্ফূর্ত গায়কী, গভীর মনোযোগ ও দৃঢ় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নৌবাহিনী কলেজ ঢাকার শিক্ষার্থী সুমাইয়া খানম মনিকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তার পরিবেশনাগুলো ইতোমধ্যে শ্রোতাদের দৃষ্টি কাড়ছে এবং প্রশংসা অর্জন করছে।
ঢাকার মিরপুরে বেড়ে ওঠা মনিকার শৈশবেই সংগীত জায়গা করে নেয় হৃদয়ে। বাবার গাওয়া গান শুনেই প্রথম সংগীতের প্রতি আকর্ষণ জন্মায় তার মনে। বাবার হাত ধরেই শুরু হয় তার প্রথম গান শেখা। পরবর্তীতে বিদ্যালয়জীবনে নিয়মিত সংগীতচর্চা তাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। মনিকা বলেন, “বিদ্যালয়ে গান গাইলে সবাই প্রশংসা করত। সেই উৎসাহই আমাকে পথ দেখিয়েছে।”
তার সংগীতজীবনে প্রেরণার প্রধান উৎস খ্যাতিমান শিল্পী হায়দার হোসেন, যাকে তিনি স্নেহভরে চাচ্চু নামে ডাকেন। তার প্রভাব মনিকার গায়কীতেও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে—সুরের গভীরতা ও অনুভূতির প্রকাশে।
বিভিন্ন ধরনের গান করলেও আধুনিক গানের প্রতি রয়েছে তার বেশি ঝোঁক। এখনো নিজের কথা বা সুরে গান করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে আধুনিক সংগীতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে চান তিনি। পাশাপাশি তিনি নিজের গান-দল উইং অব ডাস্ক-এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী। তুহিন, রোজ মহিদ ও লিফতিকে নিয়ে তাদের এই দল ইতোমধ্যেই বহু মঞ্চে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছে।
মঞ্চে গানের অভিজ্ঞতাকে মনিকা মনে করেন জীবনের অন্যতম আনন্দ। শ্রোতাদের সামনে দাঁড়িয়ে পরিবেশনাই তাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয়। পড়াশোনা ও সংগীত—দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে তিনি এগিয়ে চলেছেন।
নারী হয়ে সংগীতজগতে পথচলার অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে মনিকা জানান, “আমার পরিবার আমাকে সম্পূর্ণভাবে সহায়তা করে। তাদের বিশ্বাসই আমাকে সাহস এনে দেয়।” পরিবারের এই সমর্থনই তার এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি।
গান ছাড়াও মনিকার আগ্রহ রয়েছে পোশাক নকশায়। তার বিশ্বাস, সৃজনশীলতার প্রতিটি দিকই একজন শিল্পীকে নতুনভাবে ভাবতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে তিনি আধুনিক গান ও পোশাক নকশা—দুটো ক্ষেত্রেই নতুন কিছু উপহার দিতে চান। তার অন্যতম বড় স্বপ্ন কোক স্টুডিও বাংলা-র মতো গৌরবমঞ্চে গান করা—যা তিনি জীবনের বিশেষ অর্জন বলে মনে করেন।
আগামী কয়েক বছরে তিনি নিজেকে দেখতে চান শ্রোতাদের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে। তরুণ শিল্পীদের উদ্দেশে মনিকার বার্তা—“হতাশ হও না। দৃঢ় মনোযোগ আর পরিশ্রম থাকলে কোনো স্বপ্নই দূরে থাকে না।”
তার গল্প শুধু গান নয়, বরং স্বপ্ন, চেষ্টা আর আত্মবিশ্বাসের গল্প। সুমাইয়া খানম মনিকার কণ্ঠ যেমন আজ বহু মানুষকে আকৃষ্ট করছে, তেমনি ভবিষ্যতে তিনি হয়ে উঠতে পারেন দেশের সংগীতজগতের নতুন আলোকিত নক্ষত্র—এমন প্রত্যাশায় রয়েছেন তার শ্রোতা ও অনুরাগীরা।