নিশাত শাহরিয়ার
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 2:52 PM
রাজনীতির রাজপথে এক লড়াকু সৈনিক জামাল হোসেন ইমাম
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বার বার প্রতিহিংসার শিকার বিএনপি নেতা জামাল হোসেন ইমাম। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসই যেন কাল হয়েছিল রাজপথের লড়াকু সৈনিক জামালের জীবনে। হামলা, মামলা, জেল-জুলুম, হয়রানি সবই যেন নিয়ম করে এসেছিল শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী এই মানুষটির জীবনে।
তবুও রাজনীতির রাজপথে আপোষ করেননি তিনি। সাময়িক লাভের আশায় দলীয় আদর্শকে কখনোই জলাঞ্জলি দেননি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারীর এই নেতা।
মিথ্যে মামলায় দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মুক্তির অপেক্ষায় কাটিয়েছেন দীর্ঘ ১১টি বছর। জীবনের সেই দু:সময়ে ছায়ার মতো পাশে দাড়িয়েছিলেন একমাত্র বৃদ্ধা মা। ছেলেকে মুক্ত করার চেষ্টায় বাবার বাড়ীর সম্পত্তি থেকে শুরু করে স্বামীর দেয়া শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করেন মমতাময়ী মা।
এমনকি মেয়ের গহনা বিক্রির টাকাও ব্যয় করেছিলেন কারাবন্দী ছেলে জামালের জন্য। রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামালের মতো হাজারো জামালেরা বিপদের সময় এভাবেই লড়ে যায় তবুও রাজনীতির দমের খেলায় দমে যায় না কখনো।
জীবনের ফেলে আসা স্বর্ণালী সময়ে চাইলে হতে পারতেন ভালো মানের ফুটবলার কিংবা ক্রিকেটার। দুটি খেলাতেই আগ্রহ এবং দখল ছিল তার। কিংবা বেছে নিতে পারতেন নির্ভেজাল চাকরি জীবন। কিন্তু সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ বির্ণিমানের স্বপ্ন দেখা জামাল অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচীসহ অসংখ্য জনকল্যাণমূলক কাজ দেখে। তাই তো রাজনীতির রাজপথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছেন সেই কৈশোর বয়সেই।
জীবন যুদ্ধে হার না মানা এই মানুষটি ফ্যাসিবাদের রোশানলে পড়ে সব হারিয়ে নি:স্ব হলেও হাসিমুখে ভালো থাকার স্বপ্নে বিভোর থাকেন আগামীর সম্ভাবনায়।
কৈশোরের গন্ডি পেরোনোর আগেই রাজনীতিই যেন ভবিষ্যৎ নির্ধারন করেছিল জামাল হোসেন ইমামের জীবনে। তাই তো শত সহস্র বাঁধার মুখেও ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর হাজারো জামালেরা আন্দোলনে সাহস জোগায়, শত্রুর চোখে দু:স্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা ফার্স্ট জয়েন সেক্রেটারি জামাল হোসেন ইমাম। ২০১২ সালে অর্পিত এই দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন শহীদ জিয়ার অকুতোভয় সৈনিক জামাল হোসেন ইমাম।
ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামল থেকে শুরু করে জীবনের বেশিরভাগ সময়ই রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে কাটিয়েছেন নির্ভিক এই নেতা। কখনো কখনো মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করেও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রতিদিনই জীবনের শেষ দিন- এটাই ছিল জামাল হোসেন ইমামের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অন্যতম আত্মবিশ্বাস।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী এবং সহযোদ্ধারা জানান, নব্য বিএনপি হিসেবে পরিচিত একটি কুচক্রী মহল সর্বদাই শেরেবাংলা নগর থানা ২৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন ইমামের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে ষড়যন্ত্র করছে প্রতিনিয়ত। মিথ্যে মামলা আর অযথা হয়রানি যেন জামাল হোসেনের রাজনৈতিক জীবনের নিত্যসঙ্গী !
অর্থবিত্ত কিংবা জমানো টাকা কিছুই নেই তার। তবুও দলের প্রতি বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে দেশ নায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন সময়ের সাহসী সৈনিক বিএনপি নেতা জামাল হোসেন ইমাম।