নিশাত শাহরিয়ার
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 4:50 AM
বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় রেফারি নিকোলা রিজোলি
বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা ফুটবলে স্বচ্ছতা প্রদর্শনের জন্য ১৫৮১ সালে রেফারির ধারনাটি প্রথম নিয়ে আসেন রিচার্ড মোলকাস্টার। আর ফুটবলারদের জন্য লাল কার্ড কিংবা হলুদ কার্ডের ব্যবহার শুরু হয় ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে। এভাবেই সময়ের বাঁকে বাঁকে তৈরী হয় বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস। ফুটবল যদি হয় বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা তবে রেফারি তার পরিপূরক। এ কারনেই বলা হয় ফুটবল মাঠের আলোচিত চরিত্র রেফারি।
বছরের পর বছর টুর্নামেন্টের
পর টুর্নামেন্টের চাপ সামলে ম্যাচ পরিচালনা করে যাওয়া এই রেফারিদের কেউ কেউ দক্ষতায়,
যোগ্যতায় হয়ে ওঠেন রেফারিদের সেরা রেফারি। বলছি আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের জনপ্রিয় রেফারি
নিকোলা রিজোলির কথা।
ফুটবল দুনিয়ার বিখ্যাত এই মানুষটির জন্ম ইতালির মোডেনা প্রদেশের মিরানডোলার একটি সাধারন পরিবারে। ১৯৭১ সালের ৫ অক্টোবর জন্ম নেয়া ইতালিয়ান বস নিকোলা পড়াশুনার পাঠ চুকিয়েছিলেন ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। রেফারি হিসেবে বিখ্যাত হওয়ার অনেক আগে থেকেই ছিলেন একজন সফল আর্কিটেক্ট।
বিশ্বের সব থেকে বড় বড় আসরগুলোতে বাঁশি বাজিয়েছেন এই ইতালিয়ান বস। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্টোরি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকসে সেরা রেফারিদের র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবল দুনিয়ার এই কিংবদন্তি। খেলার মাঠে নিখুঁত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ম্যাচ পরিচালনায় বিশেষ দক্ষতার কারণে অনেকেই তাকে তুলনা করেন বিশ্বের আলোচিত রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনার উত্তরসূরি হিসেবে।
ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি আর স্বচ্ছতার
কারনে ফুটবল পূজারীদের কাছে আলোচিত নাম নিকোলা রিজ্জোলি। আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে
বেশ দাপটের সঙ্গে রেফারিং করেছেন শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে জার্মানি ও আর্জেন্টিনার হাই-ভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচটি পরিচালনা করেছিলেন ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি রেফারি নিকোলা রিজোলি। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অল-জার্মান ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ম্যাচেও বাঁশি বাজিয়েছিলেন টানা সাতবার 'রেফারি অফ দ্য ইয়ার' পুরস্কারে ভূষিত নিকোলা রিজোলি।
খেলার মাঠে অসাধারন দক্ষতার কারনে ২০১৪ ও ১৫ সালে টানা দুইবার
বিশ্বের সেরা রেফারি নির্বাচিত হন ফুটবল বিশ্বের আলোচিত এই
মানুষটি। বর্ণাড্য কর্মজীবনে ক্লাব এবং আর্ন্তজাতিক অঙ্গন মিলিয়ে ৪৪৯টি ম্যাচ পরিচালনা
করেছেন কিংবদন্তি রেফারি নিকোলা রিজোলি। ইতালির সেরি-এ লীগে প্রায় ২৩৪ টি ম্যাচ পরিচালনার
অভিজ্ঞতা রয়েছে ফুটবল দুনিয়ার এই মানুষটির। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের মতো মর্যাদাপূর্ন
টূর্নামেন্টে ৪৯টি ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের আলোচিত রেফারি নিকোলা রিজোলি।
মাঠের বাইরেও পেশায় একজন স্থপতি হিসেবে বেশ পরিচিত তিনি। দমের খেলায় দমে না যাওয়া মানুষটির ক্যারিয়ার গ্রাফ দেখলেই বোঝা যায় সফলতার সিঁড়ি বেয়ে কতটা উচ্চতায় উঠেছেন তিনি। বিশ্বের আলোচিত রেফারি নিকোলা রিজোলির আর্ন্তজাতিক প্রীতি ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল ২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর।
জার্মানির রাইন এনার্জি স্টেডিয়ামে
অনুষ্ঠিত ম্যাচে রোমানিয়ার বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল জার্মানী। সেই ম্যাচ পরিচালনার
মধ্য দিয়ে আর্ন্তজাতিক ফুটবল অঙ্গনে পা রাখেন ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি রেফারি নিকোলা রিজোলি। স্বপ্ন আর সম্ভাবনাকে
সাথী করে পেশাগত জীবনে দায়িত্ব পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন তিনি।
২০১৭ সালের ৪ঠা জুলাই বিশ্ব ফুটবলের আসর থেকে অবসর নেন নিকোলা রিজোলি। অবসরের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন ইতালিয়ান বস নিকোলা রিজোলি। উত্তর ও মধ্য আমেরিকাসহ ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ-এর টেকনিক্যাল রেফারিং উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন রেফারিদের রেফারি নিকোলা রিজোলি।
২০২৬ সালের তথ্য
অনুযায়ী, উয়েফা রেফারি অবজারভার হিসেবেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন
করছেন নির্ভুল রেফারিংয়ের জন্য সমাদৃত এই মানুষটি। নব্বই মিনিটে জয়-পরাজয়ের অনিশ্চয়তার
খেলায় কঠোরতা আর দক্ষতায় গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টির নেপথ্যের মানুষটিও
কিন্তু নিকোলা রিজোলি। রেফারিং ক্যারিয়ার থেকে বিদায় নিলেও পেশার প্রতি ভালোলাগা থেকে
এখনো যুক্ত রয়েছেন রেফারিং পেশার সাথেই।
ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইটের ফোকাস থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন শান্ত স্বভাবের এই মানুষটি। সংসার জীবনে স্ত্রী বারবারাও চেয়েছেন ব্যক্তিগত জীবনকে ব্যক্তিগতভাবেই কাটিয়ে দিতে।
পেশা এবং সংসার জীবন নিয়ে রিজোলি প্রায়ই বলতেন, “স্থাপত্য আমাকে ধৈর্য্য শিখিয়েছে আর ফুটবল আমাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিখিয়েছে। আমার পরিবার আমাকে এই দুটি ভিন্ন জগতের ভারসাম্য বজায় রাখতে সব সময়ই উৎসাহ দিয়েছে।” পেশাগত জীবনে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি পেলেও সংসার জীবন নিয়ে প্রচারবিমুখ নিকোলা দম্পত্তির পারিবারিক জীবনের তেমন একটা তথ্য পাওয়া যায় না পাবলিক ডোমেইনে।