তিমির বনিক (মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি)
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 6:20 PM
বানিজ্যিক স্থাপনার নামে অবাধে পাহাড় টিলা কেটে চলছে নির্মান কাজ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড়-টিলা কেটে অবৈধভাবে রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির প্রবণতা বেড়েছে।
রাধানগর, লাউয়াছড়া, ডলুবাড়ি ও মাঝেরছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক টিলা ধ্বংস করে এই স্থাপনাগুলো নির্মিত হচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
প্রশাসন মাঝে মাঝে জরিমানা করলেও অবৈধ নির্মাণ কাজ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। বর্তমানে ডলুবাড়ি এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা মিলে সরকারি নির্দেশনিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনিয়ম গুলো নিয়ম অনুযায়ী করে চলেছে।
মৌভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ এবং সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়-টিলা কাটা হচ্ছে। প্রভাবশালী মহল এবং কিছু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যোগসাজশে এই ধরণের কাজ চলছে।
টিলা কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, পানির ধারা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, পাহাড় কেটে রিসোর্ট তৈরি কোন আইন সঙ্গত নয়, অনুমতি বিহীন রিসোর্ট তৈরি কোন বিধান নেই পর্যাক্রমে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এছাড়া শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে তাওসী গার্ডেন ও কমলগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযানের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ পাহাড় ও প্রকৃতি রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটি উপজেলা শাখার সভাপতি সাহারাব ইসলাম রুহিন বলেন, আমরা পরিদর্শন করে দেখেছি পাহাড় টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণ করছে। এর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি কিন্তু দুঃখের বিষয় কোন আইনি প্রক্রিয়া চোখে পড়েনি।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য কৃষিভূমি ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই ধরণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা প্রতিবাদ করছেন এবং প্রশাসনিক কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন।