নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ নভেম্বর, ২০২৫, 10:24 PM
বাংলাদেশ বেতারে আওয়ামী স্বৈরাচার পুনর্বাসনের নেপথ্য কারিগর সায়েদ মোস্তফা কামাল
দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পা চাটা গোলাম হিসেবে চিহ্নিত বাংলাদেশ বেতারের একমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম বাংলাদেশ বেতার ঢাকা'র পরিচালক সায়েদ মোস্তফা কামাল যার পারিবারিক বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
এলাকাবাসী জানায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের সাকোয়া গ্রামের সাকোয়া বাজারের পাশেই বাড়ি সায়েদ মোস্তফা কামালের। তার পিতা মো: মোখলেছুর রহমান পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়।
সায়েদ মোস্তফা কামালের মা নুর জাহান বেগম পঞ্চগড় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। তার ভাই সায়েদ জাহাঙ্গীর হাসান সবুজ সাঁকোয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ২০১১ এবং ২০২১ সালে।
বাংলাদেশ বেতার ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক সায়েদ মোস্তফা কামালের আরেক ভাই সায়েদ মনজুরুল হাসান সুজা বোদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করেছে এই পরিবার এবং এই পরিবারের প্রতিটি সদস্য। পরিবারের প্রতিটি সদস্য চতুর হওয়ায় তাদের নামে বেনামে গড়ে তুলেছে অসংখ্য সম্পদ।
ফ্যাসিবাদী সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের দ্বারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। আর তাই তো স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই পরিবারটির বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী, কলাকুশলী এবং বেতার সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সায়েদ মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ বেতার ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী সমর্থকদের তার সেকশনে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন ব্যাপকভাবে। বিশেষ করে উপস্থাপনা শাখায় আওয়ামী লীগের ঘোর সমর্থক এবং কর্মীদের ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম বাংলাদেশ বেতার যেন তাদের অভয়ারণ্য।
অনুষ্ঠান উপস্থাপক তাজুল ইসলাম সোহাগ ছাত্র- জনতার আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র অসন্তোষ ছড়ালেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ। উল্টো সায়েদ মোস্তফা কামাল তাজুল ইসলাম সোহাগকে ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রম বাংলাদেশ বেতারে অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় সুযোগ করে দিয়েছেন নিয়মিতভাবে।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নেয়ার উদ্দেশ্য নামের আগে শেখ জুড়ে দেওয়া শেখ শাকিল আহমেদ দীর্ঘ ১৬ বছর গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ এবং শেখ মুজিবকে ঘিরে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান লাইভ করেছেন অন্তত ১০০ বারের কাছাকাছি। ফ্যাসিবাদের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত শেখ শাকিল আহমেদকেও নিয়মের বাইরে বেশি বেশি অনুষ্ঠানে সুযোগ করে দিচ্ছেন স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের একনিষ্ঠ সমর্থক সায়েদ মোস্তফা কামাল।
ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দীর্ঘ ষোল বছর শেখ মুজিব ও তার পরিবারকে নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের জন্য লেখা অসংখ্য গানের রচয়িতা হিসেবে পরিচিত একজন গীতিকারও রয়েছেন বেতারের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার গুডবুকে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়া বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে বেতারে সকলের কাছে পরিচিত অনুষ্ঠান উপস্থাপক সজীব দত্তকে বেতারের ট্রাফিক সম্প্রচার কার্যক্রমে উপস্থাপনায় সুযোগ করে দিয়েছেন আওয়ামী পরিবারের এই ঘনিষ্ঠ সরকারী আমলা। বিগত সরকারের ষোল বছরের শাসনামলে দেশব্যাপী হাসিনার সরকারের মিথ্যা প্রচারমূলক অনুষ্ঠান উন্নয়ন বার্তাসহ অসংখ্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় জড়িত ছিলেন পলাতক পুলিশ অফিসার বিপ্লব কুমার দাসের ঘনিষ্ঠ এই অনুষ্ঠান উপস্থাপক যিনি সজীব দত্ত নামে পরিচিত।
বাংলাদেশ বেতারের স্টাফ রোজিনা বেগম রোজির বর্তমান স্বামী সাদেক শিবলী যিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষে অনবরত সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন এবং অন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসসহ ছাত্র জনতার আন্দোলনকে নানাভাবে কটুক্তি করছেন। বরিশাল বেতার থেকে সংযুক্তিতে ঢাকা সদর দপ্তরে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা রোজিনা বেগম রোজির বর্তমান স্বামীর এমন কর্মকান্ড নিয়ে বেতার কর্তৃপক্ষ একেবারে উদাসীন আচরণ করছে যার নেপথ্যে রয়েছেন হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ আমলা হিসেবে পরিচিত সায়েদ মোস্তফা কামাল।
উল্লেখ্য, রোজিনা বেগম রোজি বাংলাদেশ বেতারের রাজস্ব খাতে চাকরি করা সত্ত্বেও নিয়মিত আরও একটি বেসরকারি চাকরিতে জড়িত ছিলেন দীর্ঘ সময়। রেডিয়েন্ট গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান দেশকাল নিউজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে মাসিক বিশ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন রোজিনা বেগম। গত অক্টোবর মাসে কর্তৃপক্ষ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়।
এ বিষয়ে বেতারে কর্মরত অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একজন মানুষ একই দিনে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে অথচ বেতার কর্তৃপক্ষ সব জেনেও না জানার ভান করে আছে। গোপনে তার সাথে কোন উদ্বোধন কর্মকর্তার লেনদেন আছে কিনা এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ। যদিও তা প্রমাণ সাপেক্ষ ব্যাপার। উল্লেখিত বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও বেতার কর্তৃপক্ষ ফ্যাসিবাদের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছে বার বার।