শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)
৩০ জুন, ২০২৬, 6:22 PM
পীরগঞ্জে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ শঠিবাড়ী এর অধিনে পীরগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতায় চতরা সাব স্টেশন এবং অফিযোগ কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি, অর্থের বিনিময়ে সেবাপ্রদানসহ গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।
শঠিবাড়ীর অধীনে পীরগঞ্জ চতরা সাব স্টেশনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি, অর্থের বিনিময়ে সেবাপ্রদান, গ্রাহক হয়রানি অভিযোগ যেন আলোর নীচে অন্ধকার।
পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দূর্নীতির আতুর ঘর। অনিয়মকে নিয়ম করেই চলছে পীরগঞ্জ পল্লী অফিস, জিএম, ডিজিএম, এজিএম, চতরা সাব-স্টেশন। অভিযোগ কেন্দ্রে মালামাল চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভৌতিক বিল প্রদানের অভিযোগ, বিভিন্ন শিরোনামে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকাসহ অনলাইন টেলিভিশন এবং বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে বেশ কিছুদিন জুড়েই চলছে যা এখন টক অব দ্যা টাউন।
তারপরেও অনিয়মকে নিয়ম করেই চলছে পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এবং চতরা সাব স্টেশন। অভিযোগ কেন্দ্রে কর্মরত সেই সিন্ডিকেট কর্মচারীদের অনৈতিকভাবে গ্রাহক হয়রানি ও অর্থ লেনদেনের চলছে রমরমা ব্যবসা। এ যেন অপর্কম করে অর্থ আদায়ের স্বর্গ রাজ্য।
অপর দিকে বিদ্যুৎ লাইনের আশে-পাশে গাছপালার ডাল কর্তন না করেই টাকা আত্মসাৎ করাও অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে জুন ক্লোজিং এর অযুহাতে বিদ্যুৎ আতংকে আছেন সাধারণ গ্রাহক।
গত ২৬ জুন ২৬ইং অত্র উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের শোলোঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আসাদুলের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক-বিতন্ডার সৃষ্টি হয় এক পর্যায়ে গ্রাহক উপায়ন্তর না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে একটু পরেই ঘটনাস্থলেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন বলে পরিবার ও উপস্থিত লোকজনের পক্ষ থেকে জানা যায়।
এমন ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা, বিশেষ করে ঘটনাটি শুক্রবার, সরকারি ছুটির দিনে সংঘটিত হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ছুটির দিনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাটা কতটা যৌক্তিক মনে করেন সাধারণ গ্রাহক।
এছাড়াও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সেই বিলের ফটোকপি মিটার বোর্ডে গ্রাহক ঝুলেয়ে রাখা হয় এমন ঘটনাটিও ঘটেছে পীরগঞ্জে। বিল পরিশোধ থাকলেও তারা সংযোগ কর্তন করলেই পাচ্ছেন রশিদ মুলে ৮২৮ টাকা এবং বাড়তি আরোও অন্যান্য খরচসহ বকসি নামে কিছু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক একজন বলেন, আমার বিদ্যুৎ বিল বাকী থাকায় সকাল ১০টায় বিল পরিশোধ করি। ২টা ১৫ মিনিটে অফিস পোস্টিং দিলেও, ২টা ৩০ মিনিটে আমার লাইনটি কাটা হয়। সাধারণ ষঅসহায় মানুষের সাথে এ কেমন জুলুম? ভাবতেও অবাক লাগে আসলে আমরা কোন দেশে বাস করছি, আমরা কি এই দেশের নাগরিক?
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে পীরগঞ্জ জোনাল অফিস চরম অমানবিকতা আর নিয়মনবহির্ভূত ভাবে এক জুলুমের শিকার হতে হচ্ছে অসহায় মানুষকে। বিল পরিশোধের পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
অপরদিকে পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এমন আচরণের কারণে উপজেলা সদর বাজার মোড়ে এক মানব বন্ধনের মাইকিং করতেও শোনা যায়, উক্ত প্রচারণা উপজেলা সদরসহ বেশ কিছু এলাকায় চালানো হয়েছে।
এছাড়াও চতরা সাব স্টেশনের অধীনে হোপনা কিসকুর মৎস শিল্প সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুনরায় সংযোগ দিতে ২৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তো অনেক আগেই পাওয়ায় যায়। সেই সংঘবদ্ধ আলোচিত প্রভাবশালী, নৈশ্য প্রহরী আজাদুল ইসলাম, লাইনম্যান গ্রেড-১, শফিকুল ইসলাম (টাইগার), লাইন টেকনিশিয়ান হারুন অর রশিদ, ওয়ারিং ইন্সপেক্টর নাসিরুদ্দিন কৌশলে সেই টাকা হাতিয়ে নেয়।
শুধু তাই নয় মিটার পরিবর্তন, ড্রোপ তার পরিবর্তন করতে তিন/চার হাজার টাকা নিচ্ছে এই প্রভাবশালী চক্র। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোন সংযোগ নতুন করে দিতে গেলে ওয়ারিং ইন্সপেক্টর আগে পরিদর্শন করে পরিদর্শন রিপোর্ট দিবেন কিন্তু পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ওয়ারিং ইন্সপেক্টর নাসিরুদ্দিন পরিদর্শন না করে তিনি অফিসে বসেই দরদাম করে যদি তার চাহিদা মাফিক হয় তাহলে গ্রাহকের পক্ষে রিপোর্ট দিবেন আর তার না হলে সেই আবেদন বাতিল করাও অভিযোগ উঠেছে।
সেই সাথে নতুন করে সংযোগ নির্মান বা স্থানান্তরিত করতে লাইন টেকনিশিয়ান, হারুন অর রশিদ মোটা অংকের টাকা না পেলেই একই কৌশল অবলম্বন করে গ্রাহক হয়রানি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টাকা আছে অসম্ভবকে সম্ভব করা হয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে, আর বাড়তি টাকা দিবেন না আপনার সব বৈধতার পরেও আপনি অবৈধ। এভাবেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে পীরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস।
এ বিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মুহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, “বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।