নাজমুল আদনান (টাঙ্গাইল)
৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, 2:52 AM
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের রাজনীতির মাঠ। জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এবার নির্বাচনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘ সময় পর এই আসনে বড় কোনো রাজনৈতিক জোটের সরাসরি একক আধিপত্যের বদলে বহুমাত্রিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে, বিগত নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় স্থানীয় নির্বাচনী সমীকরণে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।
মূল লড়াইয়ে যারা থাকছেন ঘাটাইল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মূলত ৫ জন প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। তাদের প্রচারণা ও জনসভাগুলোতে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান প্রার্থীরা হলেন- এস এম ওবায়দুল হক (বিএনপি): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি লড়ছেন দলীয় প্রতীক 'ধানের শীষ' নিয়ে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনটি পুনরুদ্ধারে ব্যাপক আশাবাদী বিএনপি শিবির।
সাইফুল্লাহ হায়দার (এনসিপি): জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনীত এই প্রার্থী 'শাপলা কলি' প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন। উল্লেখ্য, এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী জোটের অন্যতম শরিক দল।
মোঃ লুৎফর রহমান খান আজাদ (স্বতন্ত্র): সাবেক তিনবারের মন্ত্রী এবং চারবারের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ এবার 'মোটরসাইকেল' প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এই নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোঃ রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে 'হাতপাখা' প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। আইনিন নাহার (স্বতন্ত্র): স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি পেয়েছেন 'হাঁস' প্রতীক। নারী ভোটারদের মাঝে তার প্রচারণা বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে।
ভোটের মাঠের হালচাল ঘাটাইল আসনের অলিগলি এখন নির্বাচনি পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীদের গণসংযোগ, উঠান বৈঠক এবং বড় বড় জনসভাগুলো এখন প্রাত্যহিক দৃশ্য।
ভোটারদের মতে, হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদের শক্ত অবস্থানের কারণে বিএনপির জন্য মাঠ যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী শরিক জোটের সমর্থন পাওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার সারাদেশে ৩০০ আসনে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী লড়ছেন। টাঙ্গাইল-৩ আসনে প্রার্থীদের হলফনামা ও আর্থিক বিবরণী ইতোমধ্যেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গাটাইলের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন কে হবেন তাদের পরবর্তী অভিভাবক। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে।