তিমির বনিক (মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬, 4:19 PM
ইসলামের ও হবসের সোস্যাল কন্টাক্টের মধ্যে মত পার্থক্য
ইসলামের সামাজিক চুক্তি বা 'সোশ্যাল কন্টাক্ট' মূলত কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, যা ব্যক্তিগত সততা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ওয়াদা রক্ষা, পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা, ন্যায়বিচার, এবং অসহায়দের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এটি বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী সবার সাথে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনকে বোঝায়।
ইসলাম সমাজে বর্ণ, গোত্র ও অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সমাজ ও প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালন করা ঈমানের অংশ। পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন, প্রতিবেশী এবং সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সমাজের মানুষের সাথে সততা বজায় রাখা এবং ওয়াদা রক্ষা করা। একে অপরের সহযোগিতায় সমাজ গঠন, যেখানে ধনীরা দরিদ্রদের প্রতি দায়িত্ব পালন করে (যাকাত, সদকাহ)।
ভদ্রতা, বিনয়, সত্যবাদিতা এবং ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা। সংক্ষেপে ইসলামের সামাজিক চুক্তি হলো আল্লাহর নির্দেশে মানব কল্যাণে কাজ করা এবং সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতিশীল হয়ে একটি সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
'টমাস হবসের (Thomas Hobbes) সোশ্যাল কন্টাক্ট বা সামাজিক চুক্তি হলো এমন একটি ধারণা, যেখানে মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য নিজেদের কিছু স্বাধীনতা ও অধিকার ত্যাগ করে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার বা সার্বভৌম শাসকের (লেভিয়াথান) কাছে সমর্পণ করে।
১৬৫১ সালের লেভিয়াথান গ্রন্থে তিনি বলেন, প্রকৃতির রাজ্যে (State of Nature) মানুষের জীবন ছিল "একাকী, দরিদ্র, কদর্য, পাশবিক ও সংক্ষিপ্ত," তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই চুক্তির প্রয়োজন ছিল।
হবস বিশ্বাস করতেন, সরকার বা আইন ছাড়া মানুষ সহজাতভাবে স্বার্থপর ও সহিংস।অরাজকতা, ক্রমাগত ভয় এবং অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে মানুষ এই চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।
এই চুক্তির মাধ্যমে একটি "সার্বভৌম" শক্তি তৈরি হয়, যার কাছে মানুষ তাদের সমস্ত ক্ষমতা অর্পণ করে যাতে সে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রক্ষা করতে পারে।
হবস মনে করতেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তার জন্য একটি কঠোর ও কেন্দ্রশাসিত সরকার বা একজন শাসক থাকা প্রয়োজন।
হবস বিশ্বাস করতেন যে একবার এই চুক্তি হয়ে গেলে, প্রজাদের আর শাসকের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনো বৈধ অধিকার নেই। হবসের মতে, সামাজিক চুক্তি হলো আত্মরক্ষার স্বার্থে নিজের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিয়ে অরাজকতা থেকে বাঁচার একটি কৌশল।
আজ আমরা শান্তি খুজি লবস খুজি লবস খুজি কিন্তু কোরআন চৌদ্দশত বছর পূর্বেই মানব কল্যাণে কি শান্তি সেটা বলে দিয়েছে। কোরআন আছে তোমারা জনপদে অশান্তি সৃষ্টি কর না। হাদিসে আল্লাহর রাসুল সাঃ বলেছেন এতিমের মাল ভক্ষণ কর না, তোমার স্ত্রীকে দাসি মনে কর না, য়তুমি পিতা মাথার হক নষ্ট কর না। অর্থাৎ বান্দার হক নষ্ট করার কথা বলেছেন।
আল্লাহ রাসুল সা: চৌদ্দশত বছর পূর্বে এই সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মানে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মেছেইজ দিয়েছেন। কোরআন আমাদের কে গাইড লাইন দিয়েছে। তাই শান্তি চাইলে ইসলামের দিকে যেতে হবে।