মতিন গাজী (যশোর)
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, 5:19 PM
অসৎ প্রস্তাব দিয়ে সৎ শাসনের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না: তারেক রহমান
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কড়া ভাষায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পর থেকে মা-বোনদের অবমাননা করছে, তাদের স্বাধীন চলাচল সীমিত করতে চাইছে এবং এনআইডি ও মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর সংগ্রহের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে।
সোমবার দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, “যারা অসৎ প্রস্তাব দেয়, তারা কখনোই সৎ মানুষের শাসন কায়েম করতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, একটি দলের শীর্ষ নেতা বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে নারীদের সম্মান দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে সেই দলের নেতারা কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করছে। “যে দল নারীদের নিয়ে এমন ভাষা ব্যবহার করে, তারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে না,”—বলেন তিনি।
তারেক রহমান দাবি করেন, এসব বক্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পর জনগণের কাছে নিজেদের চরিত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা এখন ‘অ্যাকাউন্ট হ্যাক’-এর মতো মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে। নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা বিনামূল্যে করে নারীদের ক্ষমতায়নের পথ খুলে দিয়েছিলেন।
তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি পরিবারের মা-বোনদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেতে পারেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগের সরকারের মতো রাতের ভোট ও ডামি নির্বাচন করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
আজও একটি দল একই কৌশলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে।” ভোট গণনার নামে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা উলাসী খালসহ যশোর অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন করা হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে। “বিএনপির সব উন্নয়ন প্রকল্প হবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য,”—বলেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিমসহ সকল ধর্মের পুরোহিতরা রাষ্ট্রীয় সম্মানী পাবেন। “হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি দেশ গড়বে,”—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে যশোর অঞ্চলের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিশিল্পগুলো পুনরায় চালু করা হবে। জনসভায় যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার ২২টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
এর আগে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে জনসভাস্থল পরিণত হয় মিছিল ও স্লোগানের নগরীতে। সকাল থেকেই রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে এদিন উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো, যা জনসভাকে পরিণত করে এক বিশাল রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনে।