ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
ভুল করেছি ক্ষমা করে দেন— আটকের পর শিশু ধর্ষণকারী দিনমজুর অনুমোদনহীন ঈদ মেলার আয়োজন বন্ধ করল প্রশাসন মাদক সেবনের দায়ে যুবকের জেল-জরিমানা ৩১৫ কেজি পলিথিন জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর একান্ত সচিব কমলগঞ্জের কৃতী সন্তান মাহবুবুল পোরশায় আগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রশাসনের সহায়তা পোরশার নিতপুরে অগ্নিকাণ্ডে বাড়ি পুড়ে ছাই শ্যামনগরে যুবদল নেতার নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতির উপর ন্যাক্কারজনক হামলা কুড়িগ্রাম-২ আসনসহ ৪টি আসনের ব্যালট ও রেজাল্ট সিট সংরক্ষণে হাইকোর্টের আদেশ

১০ ডিসেম্বর গোপালপুর হানাদারমুক্ত দিবস

#

রাহাত শরীফ (গোপালপুর)

১১ ডিসেম্বর, ২০২৫,  12:26 AM

news image

১০ ডিসেম্বর। গোপালপুরের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ৮ মাস পাক হানাদার বাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়ে টাঙ্গাইলের গোপালপুরবাসী ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তির স্বাদ লাভ করে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জয়বাংলা ধ্বনি আর গর্জনে গোপালপুর থানা শত্রুমুক্ত হয়।

পাকিস্তানের ২৪ বছরের দুঃশাসন আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালির ক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ নেয় ২৫ মার্চের কালরাতে। দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে গোপালপুরের জনতাও মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সংগঠিত হয়ে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে।

১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর নিকরাইল রাণী দিনমনি স্কুলে কাদেরিয়া বাহিনীর ৭০ জন কমান্ডারের বৈঠকে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী গোপালপুর থানা আক্রমণের দায়িত্ব দেন কয়েকটি কোম্পানীকে। নির্দেশ পান নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর, আব্দুর রাজ্জাক ভোলা, আসাদুজ্জামান আরজু, বকুল, আব্দুল হাকিম, নূরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান আনিস ও খন্দকার হাবিবুর রহমান কোম্পানী।র

আঙ্গুর কোম্পানী গরুহাটি এলাকা দিয়েআরজু কোম্পানী কীর্তনখোলা দিক থেকে হাকিম কোম্পানী বৈরান নদীর পশ্চিম থেকে মর্টারসহ গোপালপুর থানায় একযোগে আক্রমণ চালায়।বিমান হামলায় পালিয়ে যায় পাকসেনা ৯ ডিসেম্বর বিকেলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর তিনটি মিগ–২১ গোপালপুর ও ঘাটাইল থানায় টানা বোমাবর্ষণ করলে পাকসেনা ও রাজাকাররা রাতের আঁধারে পালাতে শুরু করে।

বাইরে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক ঘিরে তাদের প্রতিরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টার তুমুল গোলাগুলির পর পাকবাহিনী সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে। ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে শত্রুসেনারা পুরোপুরি থানা ত্যাগ করে। সকাল ১১টার দিকে আরজু কোম্পানীর চাঁদ মিঞার প্লাটুন “জয় বাংলা” ধ্বনি দিতে দিতে গোপালপুর থানায় প্রবেশ করে। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা থানা দখলে নেন এবং বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

প্রথম দিকের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন চাঁদ মিঞা, সাহেব আলী, শামছুল আলম, আব্দুল লতিফ, আজাহার আলী, কাদের তালুকদার, তোরাপ শিকদার, ইসমাইল হোসেন মৃধা, আব্দুস ছোবহান তুলাসহ আরও অনেকে।

পরে কমান্ডার আসাদুজ্জামান আরজু দলের সদস্যদের নিয়ে থানায় প্রবেশ করলে এলাকাবাসীরা ছুটে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের কোলাকুলি করে অভিনন্দন জানান।

গোপালপুর থানা দখলের যুদ্ধে ২ জন পাকসেনা নিহত, ১৫ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ, ৩০০ রাজাকার আটক, এর মধ্যে ৭৫ জনকে বিচার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে পাক বাহিনীর ৮০টিরও বেশি অস্ত্র। এরপর নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুরের নেতৃত্বে থানায় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু হয়।

গোপালপুরের গর্ব—১০ ডিসেম্বর। এই দিনটির স্মৃতি শুধু গোপালপুর নয়, পুরো টাঙ্গাইলবাসীর জন্য এক গৌরবের ইতিহাস। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগে গোপালপুর হানাদারমুক্ত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথমবারের মতো থানা প্রাঙ্গণে উড়তে থাকে।