ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত লাকসামে দৌলতগঞ্জ মহিলা এতিমখানার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা পীরগঞ্জে পৌর ভবনের বারান্দার ছাদ ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত ৪ বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ডিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ সভায় শ্রেষ্ঠ হলেন যারা বেনাপোলে আবু তাহের ভারতকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে পৌর বিএনপির সংবাদ সম্মেলন পীরগঞ্জে পরিত্যক্ত কলাগাছের কান্ড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মূল্যবান ফাইবার পোরশায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ও প্রশমন দিবস পালিত কালাইয়ে দুর্গাপূজা ঘিরে প্রস্তুতি সভা, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্ব ডেঙ্গু-হাম মোকাবিলায় অব্যবস্থাপনা বন্ধ করুন: এবি পার্টি

হলুদ সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য ও মহামান্য হাইকোর্টের বার্তা

#

মেহেদি হাসান সুমন (ভোলা প্রতিনিধি)

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  2:41 AM

news image

মো: রিয়াজ উদ্দিন

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) দেশে পরিচালিত অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো পেজগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট ১৫ সেপ্টেম্বর-২০২৬ মঙ্গলবার। 

এসব পোর্টাল ও পেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। শুনানিতে অংশ নেন ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু। আইনের এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ মূলত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধেই এক সময়োচিত বার্তা। 

৭১-এর স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও নীতি-নৈতিকতার অভাবে আজ আমরা যেন পরনির্ভরশীল ডানা কাটা পরীর মতো আটকে আছি। সামান্য স্বার্থের জন্য জাতীয় ভাবাবেগ ও নীতি বিসর্জন দিয়ে দেশ ও জাতির সাথে সার্বিক দিক দিয়ে বেইমানি করে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা বাঙালি জাতি। একটি সুষ্ঠু, সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সাংবাদিকতা ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে কাজ করে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তির অপচর্চা, ‘মব সাংবাদিকতা’ ও হলুদ সাংবাদিকতা এক মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আনাচে-কানাচে, অলিতে-গলিতে অপসাংবাদিকতার দোকান খোলা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, নীতি-নৈতিকতা কিংবা পেশাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবল পরিচয়পত্র বাগিয়ে একশ্রেণির সুবিধাভোগী চক্র এই মহৎ পেশাকে কলঙ্কিত করছে। সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাই আজ এই চক্রের ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিং, সামাজিক হেনস্তা ও মানহানির শিকার।

এই নৈরাজ্যের নেপথ্যে রয়েছে কিছু অসাধু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দায়িত্বহীনতা। কোনো ধরনের যোগ্যতার মূল্যায়ন ছাড়াই কেবল আর্থিক সুবিধা বা অসৎ উদ্দেশ্যে আইডি কার্ড ইস্যু করার কারণে মাঠপর্যায়ে অপসাংবাদিকতা বিস্তার লাভ করছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল ধারার গণমাধ্যমে ঠাঁই না পেয়ে এরা ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ ও অনিবন্ধিত পোর্টালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অর্থ উপার্জনের অনৈতিক পথ বেছে নিচ্ছে।

তবে শত প্রতিকূলতার পরও বহু সৎ, নীতিবান সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদমাধ্যম মালিক রয়েছেন; যারা সমস্ত অনৈতিকতার ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও পেশাদারিত্বের মূলধারাকে টিকিয়ে রেখেছেন। তাঁরাই সমাজের প্রকৃত কাণ্ডারী। অপসাংবাদিকতার এই ভয়াল থাবা বন্ধে এবং সাংবাদিকতার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সংবাদের মাঠে কাজের জন্য কঠোর যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। যাচাই-বাছাই ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে আইডি কার্ড প্রদানকারী মিডিয়া ও সম্পাদকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও সনদ বাধ্যতামূলক করা করা জরুরি। সাংবাদিকতায় পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার সনদপত্র ছাড়া কাউকে মাঠে সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

পেশাগত অনিয়ম ও ব্ল্যাকমেইলিং বন্ধে একটি স্বাধীন ‘অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ সেল’ গঠন করতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। জিরো টলারেন্স নীতি ও বয়কট করতে হবে। প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে অপসাংবাদিকদের চিহ্নিত করে বয়কট করতে হবে। একই সাথে প্রশাসনকে ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করতে হবে। যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন প্রণয়ন করা উচিত। অনিবন্ধিত পোর্টাল ও পেজের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর ও স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি।

হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশনা ও রুল জারি প্রমাণ করে যে, অপসাংবাদিকতা ও ডিজিটাল হেনস্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সময় এসেছে। এই সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে এবং নতুন প্রজন্মকে অনৈতিক পথ থেকে রক্ষা করতে নীতিবান সাংবাদিক, সম্পাদক, প্রকাশক, মালিক, স্থানীয় প্রশাসন, সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন