নিশাত শাহরিয়ার
২৬ মে, ২০২৬, 9:22 PM
স্পর্শকাতর বিষয়ে বাংলাদেশ বেতারের স্টুডিওতে উপস্থাপিকার ফেসবুকে ভিডিও বার্তার যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশ বেতারের স্টুডিওতে একজন উপস্থাপিকার নিজস্ব ফেসবুকে ভিডিও বার্তার যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসার সাথে ঘটে যাওয়া বর্বরতার বিচার প্রাপ্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, দেশের বিচার বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন নিরলসভাবে কাজ করছে এবং রামিসার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী দেশের আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর বিষয়টি যখন বিচারের ফলাফলের অপেক্ষাধীন রয়েছে ঠিক তখন এই বিষয়টিকে আবারো সামনে নিয়ে এসে রাষ্টের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান উপস্থাপিকা তনিমা করিমের বিরুদ্ধে।
জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বাংলাদেশ বেতারের দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপিকা তনিমা করিম সম্প্রতি রামিসাকে নিয়ে বাংলাদেশ বেতারের স্টুডিওর ভেতরে দুই মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের একটি নিজস্ব ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করেন।
'কার কাছে ক্ষমা চাইবো' এমন শিরোনামে বাংলাদেশ বেতারের ভেতরে স্টুডিওতে উপস্থাপিকা তনিমা করিম তার ফেসবুক একাউন্টে এক ভিডিও বার্তায় রামিসার ধর্ষণ ইস্যু নিয়ে প্রায় তিন মিনিট আলোচনা করেন।
বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান উপস্থাপক-উপস্থাপিকাসহ বেতার সংশ্লিষ্টরা জানান, ভিডিও বার্তার শুরুতেই বেশ হতাশা নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মতামত রাখা শুরু করেন তিনি। এরপর উপস্থাপিকা নিজেই রামিসা ইস্যু নিয়ে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করেন।
যারা ভিডিওটি দেখেছেন তারা জানান, দেশের এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে বাংলাদেশ বেতারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী প্রচার মাধ্যমের ভেতরে অনুমতি ছাড়া বেতারের স্টুডিও ব্যবহার করে এভাবে ফেসবুকে বার্তা দেয়া মোটেও উচিৎ হয়নি।
যে বিষয়টি বিচারাধীন এবং সঠিক বিচারের আশায় দেশবাসী-এমন অবস্থায় বেতার কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এভাবে বেতারের স্টুডিওর ভেতরে ফেসবুকে বার্তা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী দেশ প্রেমিক এনাউনস্যাররা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, একটি মহল সব সময়ই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা বেশ আক্ষেপের সাথে বলেন, বাংলাদেশ বেতারে এখনো আওয়ামী ঘরানার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা পরোক্ষভাবে যেকোনো উপায়ে যেকোন কারো দ্বারা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিকে উস্কে দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করতে চায়।
তারা বলেন, যদি তাই না হবে তাহলে বেতারের একজন উপস্থাপিকা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কিভাবে বেতারের মতো একটি কেপিআই ঘোষিত সরকারী প্রতিষ্ঠানের স্টুডিও ব্যবহার করে ফেসবুকে স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলে।
এদিকে, এমন ঘটনার পর এখন পর্যন্ত উপস্থাপিকা তনিমা করিমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালি দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিগত আওয়ামী শাসনামলে বেতার কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিষিদ্ধ শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
তারা বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী হওয়ায় আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিভিন্নভাবে হয়রানি, নির্যাতন, নিপীড়ন করেছিল বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষ। তাই সময়ের বাস্তবতায় সঠিক বিচার প্রত্যাশা করেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী উপস্থাপক-উপস্থাপিকাসহ শিল্পী ও কলাকুশলীরা।