নিশাত শাহরিয়ার
০৬ নভেম্বর, ২০২৫, 6:58 PM
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের রোষানলে বিএনপি নেতা আমির হোসেন
আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে দীর্ঘ ১৬ বছর একচেটিয়া অবৈধ উপায়ে সংযোগ নিয়ে বিদ্যুতের ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত সেলিম, জামাল, মিঠু, উজ্জলসহ দুর্ধর্ষ একটি কিশোর গ্যাং।
হাসিনা সরকারের দীর্ঘ সময়কালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁও এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী সকল জায়গার ফুটপাত, হোটেল-রেস্তোরা, বস্তিসহ বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ উপায়ে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে উল্লেখিত জায়গাগুলো থেকে মোটা অংকের টাকা নিত বিদ্যুতের এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই অপকর্ম করতো সেলিম, জামাল, মিঠু, উজ্জ্বলসহ তাদের ঘনিষ্ঠরা।
ছাত্র জনতার আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের পর তারা গা ঢাকা দিলেও থেমে থাকেনি তাদের অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম। বিগত সময়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলের লোকদের তারা যেমন হয়রানি করেছিল বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ভাড়াটে লোক দিয়ে একইভাবে নানা রকম হয়রানি করার চেষ্টা করছে এই সিন্ডিকেট চক্রটি।
ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বিএনপির বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত বিএনপি নেতাদের বসার স্থানের পাশে কৌশলে কিছু বিদ্যুতের তার এবং রিক্সার ব্যাটারি রেখে দেয় এই বিদ্যুৎ সিন্ডিকেট। যাতে করে সহজেই প্রমাণিত হয় বিএনপি'র লোকজন এই অবৈধ বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। আসলে বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের এই সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের শিকার হন বিএনপির বাজার ইউনিটের সভাপতি আমির হোসেন।
দীর্ঘ সময় ধরে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে সর্বমহলে তার পরিচিতি থাকলেও তাকে কৌশলে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সেলিম জামাল গং। বিএনপি নেতাদের বসবার স্থান সংলগ্ন জায়গায় কৌশলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রেখে দিয়ে আইনিভাবে তাদেরকে দোষী প্রমাণিত করার চেষ্টা করে অবৈধ উপায়ে বিদ্যুৎ ব্যবসার সাথে জড়িত এই সিন্ডিকেটটি।
এলাকাবাসী এবং স্থানীয় দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমির হোসেন কখনোই বিদ্যুতের লাইনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত। শহীদ জিয়ার একজন আদর্শের সৈনিক হিসেবে তিনি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন বিগত হাসিনা সরকারের শাসনামলে।
বর্তমান সময়ে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ এই সিন্ডিকেটটির অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবসা যাতে হাতছাড়া না হয় সে কারণে নানা রকম ষড়যন্ত্র করে আসছে তারা।
এলাকাবাসী মনে করেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের উচিত সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অন্যায়ভাবে আমির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে আর তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
অবিলম্বে অত্র এলাকায় অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী।