শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)
০৯ আগস্ট, ২০২৬, 10:10 AM
রংপুরের পীরগঞ্জে মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও সিরাপ
সাময়িক আনন্দ বিলাশের লোভে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই যেমন খুশি ঔষধ সেবন করা স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের পরিপন্থী। নিয়মে ঔষধ অনিয়মে বিষ। অনিয়মিত ওষুধ সেবন করা মানেই মানব দেহের ক্ষতি সাধন করা, অথাৎ নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া।
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা হাটে-বাজার, পাড়া-মহল্লা এমনকি মোড়ের টোল ঘরটিতেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও সিরাপ। এ সব ট্যাবলেট বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়। যেমন- ভায়াগ্রা, প্যানোগ্রা, ইরানাভিল ইত্যাদি। আর সিরাপের মধ্যে রয়েছে জিনসিং প্রোগ্যানোপ্লেক্স, এনার্জি ড্রিংক ইত্যাদি নামে।
এসব সেবনের কারণে হৃদরোগ ও স্ট্রোক রক্তচাপ হুট করে বেড়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে। এছাড়াও কিডনি ও লিভার বিকল হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। নিয়মিত সেবনে স্বাভাবিক ক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়।
অন্যান্য সমস্যাগুলো হলো তীব্র মাথা ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা ও মেজাজ খিটখিটে হওয়া। গলা লাগা, নাক বন্ধ, ঝাপসা দেখা, বদহজম হওয়া, বুক ব্যথা, হঠাৎ শ্রবণ বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, বিশেষ করে হার্টের রোগী, উচ্চ রক্তচাপ/নিম্ন রক্তচাপ, নাইট্রেট জাতীয় ওষুধ সেবনকারী, কিডনি-লিভারের সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত সেবনে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনার শতভাগ। এই সিরাপগুলোতে অতিরিক্ত চিনি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য খুবই ক্ষতিকর।
অজানা মিশ্রণ আর কী পরিমাণে কোন উপকরণ আছে তার নিয়ন্ত্রণ নেই। আর এতে করে লিভার, কিডনির উপর চাপ পড়ে। স্টেরয়েড/ওষুধ মেশানো থাকলে হরমোনের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, মুখ ফুলে যাওয়া, ইমিউনিটি কমে যাওয়া হতে পারে।
মাদক বিরোধী অভিযানে পুলিশ, বিজিবি, ডিবি, র্যাব, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক সেবন কিছুটা কমে গেলেও এ সব যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এবং সিরাপ সেবনে ঝুঁকে পড়েছে যুব সমাজ।এগুলো ওষুধ বা ক্যান্ডি না। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত না।
অনেক হারবাল পণ্যে পরীক্ষা না করেই নিষিদ্ধ ওষুধ মেশানো থাকে। এটা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারে হরমোন ব্যালেন্স, লিভার, কিডনি এবং হার্টের সমস্যা হতে পারে। সমস্যা থাকলে লজ্জা না পেয়ে একজন ইউরোলজিস্ট বা সেক্সোলজিস্ট ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। কারণটা জানা জরুরি। এটা ডায়াবেটিস, প্রেসার, স্ট্রেস নাকি অন্য কিছু থেকে হচ্ছে। সঠিক কারণের চিকিৎসা করলে ওষুধ ছাড়াই অনেক সময় সমাধান হয়।
এই সব ঘাতক ঔষধ সেবন বন্ধের জন্য খাদ্য দ্রব্য অধিদপ্তর, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরসহ উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি বলে মনে করেন সচেতন মহল।