মেহেদি হাসান সুমন (ভোলা প্রতিনিধি)
২৫ জুলাই, ২০২৬, 11:08 PM
ভোলায় জমিজমাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধ মহিলাকে মারধর
ভোলা সদর উপজেলাধীন চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সরকার বাড়িতে দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ আনোয়ারা বেগমের সাথে স্থানীয় সাজু গংদের সাথে জমি জমার বিরোধ চলে আসছে।
হঠাৎ করে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বৃদ্ধ অসহায় আনোয়ারা বেগমকে সাজুসহ তার পরিবারের সিরিনা রিনা ও নাজমা মিলে মারধর করে। বৃহস্পতিবার আনুমানিক একটা ত্রিশ মিনিটের সময় আনোয়ারা বেগমের নিজ বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানান আহত আনোয়ারা বেগম।
ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, এই সাজু গংদের অত্যাচারে আমি আর বাড়িতে থাকতে পারছি না। এ কারণে আমি ঢাকায় চলে যাই কিন্তু ঢাকায় থাকতে সমস্যার কারণে আমি দেশে আমার নিজ ঘরে থাকি। আমি বাড়িতে আসলেই সাজু গংরা আমার উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার চালায়। তিনি বলেন, এর আগেও তাকে একবার মারধর করেছিল।
আনোয়ারা বেগম বলেন, আমি এলাকায় মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাইতে গেলেও তারা বিচার করবে করবে বলে করেননি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জমিজমা মেপে দিলে সাজু তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমির পিলার তুলে ফেলে। এ বিষয়ে আমি স্থানীয় বিচারকগণকে জানালে তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানান আমি এ ধরনের বিচার মানি না।
বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১:৩০ মিনিটের সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজু এবং তার মেয়েদেরকে নিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আমার মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়ে যায়।
অসুস্থ আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার সাথে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। আমার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।আমি এর সঠিক বিচার চাই।
মারধরের বিষয়ে আহত আনোয়ারা বেগমের ছেলের বউ জানান, আমার শাশুড়িকে আগে একবার মারধর করেছে তখন অনেকদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আমরা কোন বিচার পাইনি। আমি বাড়িতে না থাকা সত্ত্বেও আমার শাশুড়িকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে এবং পায়ে দা দিয়ে কোপ দিয়েছে। আমরা সাজুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একবার সঠিক বিচার হলে তাহলে আর এ ধরনের লম্পট চরিত্রহীন লোক কোনদিন মহিলাদের গায়ে হাত দেবেনা বলে জানান তিনি।
মারধরের বিষয় অভিযুক্ত সাজুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলেননি তিনি। মারধরের বিষয় ভোলা সদর মডেল থানার কর্মরত পুলিশ অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মারধরের বিষয় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার অভিযোগ পাইনি, লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।