রুয়েল কামাল, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)
০৭ জুলাই, ২০২৬, 12:08 AM
বড়লেখায় তালতো বোনের সাথে গোপনে বিয়ের জেরে যুবকের মৃত্যু
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তালতো বোনের সাথে প্রেম গোপনে বিয়ে করার জেরে মো. সুফিয়ান আহমদ (২৪) নামে এক যুবকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার এ ব্যাপারে নিহতের পিতা ইসলাম উদ্দিন থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার সকালে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় বড়লেখা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের পিতা ইসলাম উদ্দিন।বড়লেখা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত সুফিয়ান আহমদ বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার চাচাতো ভাইয়ের চাচাতো শালিকা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাঙাউটি গ্রামের আব্দুল করিমের মেয়ে লিজা বেগমের (২২) সঙ্গে সুফিয়ান আহমদের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তারা এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি উভয় পরিবারের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় এবং লিজা বেগম বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সম্প্রতি মেয়ের পরিবারের সদস্যরা গোপন বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। গত ২৭ জুন রাতে লিজাকে দিয়ে ফোন করিয়ে সুফিয়ানকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর ও অমানবিক নির্যাতনের পর জোর করে বিষ পান করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরে অসুস্থ অবস্থায় সুফিয়ানকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
সিলেট কোতোয়ালি থানার এসআই বিপুল দাস জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ময়নাতদন্ত করা হয়।
নিহতের বাবা ইসলাম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে হত্যার ১ দিন পূর্বে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বড়লেখা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
নিহত সুফিয়ান আহমদ এর চাচা জালাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম, মামা সমছ উদ্দিন, নিহতের ভাই রেদোয়ান আহমদ জানান, মেয়ের আত্নীয় স্বজনরা তাদের মেয়ের সাথে সুফিয়ানের প্রেমের সম্পর্ক জানার পরও অন্য জায়গার কি করে মেয়ের বিয়ে ঠিক করে। আবার কি করে মেয়েকে দিয়ে ফোন করে নিয়ে তার উপর হামলা করে পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে তার প্রমান পাওয়া গেছে।
নিহতের আরেক চাচা মজির উদ্দিন রাঙ্গাউটি গ্রামের আব্দুল হামিদের মেয়েকে তার ছেলের সাথে বিবাহ করিয়ে আনেন। ছেলের বউ সুফিয়ান আহমদের বাড়িতে যাওয়া আসা করে। আব্দুল হামিদের ভাই আব্দুল করিমের মেয়ে নিহত সুফিয়ান আহমদের সম্পর্কে তালতো বোন হয়। সেই হিসেবে যাওয়া আসা অত:পর তাদের মধ্যে প্রেম হয়। তারপর বিয়ের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
মজির উদ্দিন আরও জানান, আমার বেয়াই আব্দুল হামিদ কয়েক দিন আগে আমাকে ফোন দিয়ে নিয়ে বলেন আপনি বিয়ের ঘটক সেজে তিনির ভাই আব্দুল করিম এর মেয়েকে জিজ্ঞেস করতে বলেন তোমার একটা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি তুমি এটাতে রাজি আছো কি? তারা সকলে মিলে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাতিজা সুফিয়ান আহমদকে হত্যা করেছে।তিনি বলেন, তারা সকলে মিলে এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা তার বিচার চাই।
নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের স্হানীয় ইউপি সদস্য খসরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি। এটা কিভাবে করতে পারে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন তিনি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পরিবারের মেয়ের মামা আব্দুর রহমান জানান, ছেলেটি আমার বোনের বাড়ি এসে বিষ পান করে।
বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ওবায়দুল হক জানান, নিহতের পিতা ইসলাম উদ্দিন মামলা করেছেন। তদন্তের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।