নিশাত শাহরিয়ার
১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, 12:28 AM
বাংলাদেশ বেতারে আবারো ককটেল বিস্ফোরণ, পথচারীসহ আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা
বাংলাদেশ বেতারের মেইন গেটের সামনে আবারো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) আনুমানিক রাত সাড়ে দশটা থেকে পৌনে এগারোটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বেতারের সদর দপ্তরের মেইন গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা জানা না গেলেও ঘটনার সময় উপস্থিত পথচারী এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে ভীষন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
আতঙ্কিত লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ বেতারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বেশি জোরদার করা প্রয়োজন।
শেরেবাংলা নগর থানার বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এ প্রসঙ্গে জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশ বেতারে স্বৈরাচার এবং তাদের সমর্থকরা একচেটিয়াভাবে বেতারকে তাদের সুবিধামতো ব্যবহার করেছে।
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশ বেতারে চিহ্নিত আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী এবং সমর্থকরা সমানতালে কাজ করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর চিহ্নিত বেশ কয়েকজন দোসর ও সমর্থকের নাম বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বরং আগের মতই আওয়ামী দোসরদের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে অতি কৌশলে। বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বেতারে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সমর্থকদের ব্যাপারে বেতার কর্তৃপক্ষকে আরো বেশি সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অত্র এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
বেতারের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ এবং আক্ষেপের সুরে বাংলাদেশ বেতারের বেশ কয়েকজন শিল্পী ও কলাকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশ বেতারে আওয়ামী দোসরদের কৌশলে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
তারা বলেন, যারা দীর্ঘ ষোল বছর আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের নামে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছে বাংলাদেশ বেতারে, বছরব্যাপী নানা রকম লাইভ অনুষ্ঠান করেছে, শত শত প্রামাণ্য অনুষ্ঠান করেছে, শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনার মিথ্যা উন্নয়ন নিয়ে অসংখ্য গান রচনা করেছে, শেখ হাসিনার উন্নয়ন নিয়ে মিথ্যে প্রচারণা করেছে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায়- তারাই আবার কর্তৃপক্ষকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে পুনরায় সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বেতারের বঞ্চিত শিল্পীরা।
অনেকেই অভিযোগ করেন, বেতারের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কারণে অভিযুক্ত আওয়ামী সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
এদিকে সচেতন মহল মনে করেন, বাংলাদেশ বেতারের অভ্যন্তরে কিংবা বাইরে যদি বড় ধরনের অঘটন ঘটে যায় তাহলে বেতার কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই তার দায় এড়াতে পারবেন না। কেননা এ বিষয়ে অনেক আগেই বেতার কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন একনিষ্ঠ আওয়ামী সমর্থকদের চিহ্নিত করে তাদের বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর (সোমবার) আনুমানিক সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাংলাদেশ বেতারের গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও অত্র এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের মাঝে।