ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
স্বাধীনতা, জাতীয়তাবাদ ও উন্নয়নের অবিস্মরণীয় নাম ‎শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবশেষে সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক কচুয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুলের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় রংপুরে ডিবির অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক ৩ ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে সিলেটের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের মাঝে মাংস বিতরণ কুলাউড়ায় চার দিনের ব্যবধানে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু শ্রীমঙ্গলে নিশ্চিত মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেল লজ্জাবতী বানর দুই নারীর অভিনব কৌশলে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে চুরি বড়লেখায় টিউবওয়েল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহিদের স্পা সেন্টার যেন পতিতাবৃত্তি ও মাদকের অভয়ারন্য

#

নিশাত শাহরিয়ার

২৩ মে, ২০২৬,  4:37 AM

news image

রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বনানী কবরস্থানের পাশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহীদের স্পা সেন্টারে চলছে দেহ ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্য।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পরিচয় দেয়া শহীদ এখন বিএনপি নেতাদের পরিচয়ে দেহ ব্যবসাসহ রমরমা মাদক বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকায় বেশ দাপটের সাথে স্পার আড়ালে অল্প বয়েসী নারীদেরকে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরো জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহীদের স্পা সেন্টারটি যেন মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাত যত গভীর হয় ফ্যাসিস্টের দোসর শহীদের স্পা সেন্টার যেন ততই সরব হয়ে ওঠে মদ, নারী এবং খদ্দেরের মিলন মেলায়। অল্প বয়সী নারীদের পাশাপাশি দেশি বিদেশি ব্র্যান্ডের নানা রকমের মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করা হয় আগত খদ্দেরদের কাছে। 

বিশ্বস্হ সূত্রে জানা যায়, শহীদের স্পা সেন্টারে রয়েছে অত্যাধুনিক গোপন ক্যামেরা। অভিযোগ রয়েছে, সমাজের বিত্তবানসহ উচ্চ পদস্থ সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রলোভনে ডেকে এনে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত গোপনে ধারণ করা হয়। এরপর চলে মাসের পর মাস ব্লাকমেইলিং। অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবার কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে গোপন দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেওয়া হয় মোটা অংকের টাকা- এমনটাই অভিযোগ করেছেন অবন্তী হাউজে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। 

জানা যায়, বনানীর ২৭ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসার (অবন্তী হাউজ) ৬ষ্ঠ তলায় (লিফট-৫) ডি ফ্ল্যাটে মেসেজ পার্লারের নামে এই স্পা সেন্টারে এমন অবৈধ কার্যকলাপ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কবরস্থানের মত একটি পবিত্র জায়গার পাশে ৩৭ নম্বর বাসায় (অবন্তী হাউজে) গড়ে তোলা হয়েছে দুনিয়ার জাহান্নাম হিসেবে পরিচিত এই স্পা সেন্টারটি। 

বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, স্পা সেন্টার নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে শহীদ ও তার কর্মচারীদের দ্বারা একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, বিএনপি'র বিভিন্ন সারির রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই স্পা সেন্টারটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বেশ দাম্ভিকতার সাথে জানান শহীদ ও তার কর্মচারীরা। প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা খরচ করা হয় বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার জন্য- এমনটাই বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে শহীদ গং। 

শহীদের স্পা সেন্টারে বিএনপির নেতাদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি'র বেশ কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান সরকার এবং বিএনপিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলানোর জন্য বিভিন্ন নেতার নাম পরিচয় ব্যবহার করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহীদ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে।

বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকায়  বিএনপির নেতা-কর্মী এবং প্রশাসনের দোহাই দিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী শহীদকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে তার এই স্পা সেন্টারটি বন্ধ করে দেওয়া এখন সময়ের দাবি। 

শহীদ ও তার কর্মচারীদের দ্বারা হামলার শিকার গণমাধ্যম কর্মীরা জানান, শহীদের বক্তব্য অনুযায়ী কোন রাজনৈতিক দলের নেতাদের যদি ঐ স্পা সেন্টারের সাথে কোনভাবে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তবে তাদের ছবি, রাজনৈতিক পরিচয়, পদবিসহ সংবাদ প্রকাশ করা হবে এবং দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে অভিযুক্ত নেতাদের বিষয়ে জানানো হবে, যেন রাজনৈতিক সংগঠন তাদের অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের  বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে দালালদের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবার থেকে কম বয়সী নারীদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় এনে এই স্পা সেন্টারে জোর করে বন্দি রেখে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হয় দরিদ্র পরিবারের এই নারীদের।

অল্প বয়সী এই নারীদের মধ্যে কেউ যদি দেহ ব্যবসায় রাজি না হয় কিংবা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায় তবে তার উপর চলে চরম শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। এমন বর্বরতা যেন মধ্যযুগকেও হার মানিয়ে দেয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, শহীদের স্পা সেন্টারে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগসহ ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অবাধে যাতায়াত করে। মদ, নারী এবং মাদকের সরবরাহ নিয়মিত থাকায় এই অবৈধ ব্যবসায় তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি এবং রাজধানী জুড়ে বিশাল সিন্ডিকেট। যাদের অনেকেই শহীদের সাথে কাজ করে কমিশনের ভিত্তিতে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকায় এবং কবরস্থানের মত একটি পবিত্র জায়গার পাশে এভাবে মাদক বিক্রি এবং দেহ ব্যবসাসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রশ্রয় দেওয়ার অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শহীদের এই অবৈধ স্পা সেন্টারের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকগণ। এ বিষয়ে স্থানীয় বনানী থানাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অত্র এলাকার বাসিন্দারা।