শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)
১১ আগস্ট, ২০২৬, 10:12 AM
পীরগঞ্জে পানি নিষ্কাশনে বাধা, জলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ১২ নং মিঠিপুর এবং ১০ নং শানেরহাট ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এতে বিপাকে পড়েছে সাধারণত কৃষক,এবং স্থানীয় জনসাধারণ সময়মতো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করা হলে চলতি আমন মৌসুমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মিঠিপুর ও শানেরহাট ইউনিয়নসহ চারটি বিল—ভেলামারি, সিংগিমারী, পাটকেপাড়া ও সাতঘেংটি এর পানি নিষ্কাশনের জন্য যে নালা রয়েছে, সেটি অত্যন্ত ছোট এবং তার উপর কয়েকটি স্থানে বাঁশের বান (বানা) দিয়ে এবং খড়াজাল বসিয়ে মাছ শিকার করছেন স্থানীয় কয়েকটি চক্র। ফলে নালার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না।
এলাকার সাধারণ কৃষকদের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথটি দীর্ঘদিন ধরে সংকুচিত হয়ে আছে। কোন পদক্ষেপ নেননি সংশ্লিষ্টদের কতৃপক্ষ। তারপরেও নালায় বাঁশের বানা ও খড়াজাল স্থাপন করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে পরেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিল ও আশপাশের নিচু জমিতে পানি জমে জলাশয়ে পরিনত হয়। আর এতে করে কয়েক হাজার হেক্টর আবাদি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানায়, মাছ ধরার জন্য অস্থায়ীভাবে নালায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলেও এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার শত শত সাধারণ কৃষক। একদিকে পানি বের হতে পারছে না, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, দ্রুত নালার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, অবৈধভাবে স্থাপন করা বাঁশের বানা ও খড়াজাল অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের পথটি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। একইসঙ্গে বিলগুলোর পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
আর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু আমন মৌসুমের ফসল নয় দীর্ঘমেয়াদে এলাকার কৃষি ও জীবিকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকসহ স্থানীয় সচেতন মহল।