নাজমুল আদনান (টাঙ্গাইল)
২৬ অক্টোবর, ২০২৫, 3:44 PM
জর্ডানে চাকরির প্রলোভনে ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ
জর্ডানে ভালো কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ রওশনারা বেগম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার সংগ্রামপুর ইউনিয়ন খুপিবাড়ি গ্রামের মো. রিপন হোসেন (৩৫) ও মোছাঃ স্বপ্না আক্তার (২৫)-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রওশনারা বেগমের পুত্রবধূ মোছাঃ রিমা খাতুনকে জর্ডানে ভালো ভিসায় এক বছরের আকামাসহ চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন ১নং বিবাদী মো. রিপন হোসেন। ২নং বিবাদী স্বপ্না আক্তার বর্তমানে জর্ডানে চাকরি করছেন এবং তিনি রিপনের সহোদর ছোট বোন। পূর্ব পরিচিতি ও সুসম্পর্কের সুবাদে রওশনারা বেগম বিবাদীদের কথায় সরল বিশ্বাসে রাজি হন।
চাকরির ব্যবস্থা বাবদ ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা দিতে সম্মত হন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬/১১/২০২৪ তারিখে এনআরবিসি ব্যাংক ঘাটাইল সাব শাখায় ১নং বিবাদীর নিজ নামীয় হিসাব নং-৫১৫২৩১১০০০০৮৫৪৩তে ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৩০/১০/২০২৪ তারিখ বিকাল আনুমানিক ০৫:০০ ঘটিকায় ২নং বিবাদীর নির্দেশক্রমে ১নং বিবাদী রওশনারা বেগমের বসতবাড়ীতে সন্ধানপুর কুশারিয়া গ্রামে এসে সে আরও নগদ ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা বুঝে নেন এবং রিমা খাতুনকে জর্ডান পাঠান।
তবে পুত্রবধূ রিমা খাতুনকে জর্ডানে নেওয়ার পর বিবাদীরা কোনো আকামা করে দেননি বলে অভিযোগ। উল্টো, তাঁকে জর্ডানে এক মাস ২নং বিবাদীর হেফাজতে আটক রেখে আকামার নামে আরও ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা দাবি করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে রিমা খাতুন জর্ডানে খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করতে থাকেন। কষ্টের যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি জর্ডানের একটি শহরে আশ্রয় নেন। যেকোনো মুহুর্তে তিনি জর্ডান পুলিশ কর্তৃক আটক হয়ে দেশে ফেরৎ আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে তাঁর পরিবার।
বিষয়টি মোবাইল ফোনে ২নং বিবাদী এবং ১নং বিবাদীকে অবগত করা হলে, তাঁরা খারাপ আচরণ করেন। রওশনারা বেগমের সন্দেহ, বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশ করে তাঁদের ভুল বুঝিয়ে পুত্রবধূকে জর্ডানে ভালো কোম্পানিতে চাকরি বা আকামার ব্যবস্থা না করে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ ও প্রতারণামূলকভাবে তাঁদের ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা করছেন।
ঘাটাইল থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী রওশনারা বেগম।