নাজমুল আদনান (টাঙ্গাইল)
০২ অক্টোবর, ২০২৫, 8:55 PM
জনসেবায় নিবেদিত সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোশাররফ হোসেন
বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতিতে এমন কিছু মুখ থাকে যারা নিজেদের ক্ষমতা বা পদমর্যাদার চেয়ে জনগণের সেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। তেমনই একজন হলেন মোশাররফ হোসেন। যিনি তাঁর এলাকার ঘাটাইল উপজেলা সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার হওয়া সত্ত্বেও সকলের কাছে 'গরীবের মেম্বার' নামেই সুপরিচিত।
ইউনিয়ন পরিষদের গণ্ডিতে তাঁর প্রভাব শুধু প্রশাসনিক নয় তা আদর্শিকও। তিনি কেবল আইনি বা দাপ্তরিক কাজ নয় বরং নীতি ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
মেম্বার মোশাররফ হোসেনের জনসেবার মূল ভিত্তি হলো তাঁর সুসম্পর্ক ও সহমর্মিতার নীতি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মোশাররফ হোসেন সবসময় দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার নীতি অনুসরণ করেন। তিনি বিরোধী পক্ষ বা অন্য দলগুলোর সাথেও সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। এর ফলে এলাকার কোনো উন্নয়নমূলক কাজে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সেবা করতে হলে সকল পক্ষকে নিয়ে একযোগে কাজ করা জরুরি।
'গরীবের মেম্বার' উপাধিটি তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমেই অর্জন করেছেন। সরকারি সাহায্য যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ-এর চাল বা অন্যান্য যেকোনো সুযোগ-সুবিধা বিতরণের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় গরীব ও অসহায়দের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করেন। কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বকে তিনি প্রশ্রয় দেন না।
সরকারি সহায়তার উপর নির্ভর না করে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেক গরিব পরিবারের পাশে দাঁড়ান। জটিল রোগ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাঁর এই মানবিক ভূমিকা তাঁকে আরও বেশি জনপ্রিয় করেছে।
তৃণমূলের রাজনীতিতে যেখানে প্রায়শই অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠে, সেখানে মোশাররফ হোসেনের প্রধান নীতি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। যেকোনো প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গরীব ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন। সরকারি বরাদ্দ বা প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তিনি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরেন। যার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি।
মোশাররফ হোসেন প্রমাণ করেছেন যে, জনগণের নেতা হওয়ার জন্য উচ্চ পদে থাকা জরুরি নয় বরং জনগণের প্রতি আন্তরিকতা ও নীতির প্রতি অবিচল থাকাটাই মূল বিষয়। একজন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হয়েও তিনি যে নীতিবান ও জনমুখী কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা দেশের অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও অনুসরণীয়। তাঁর এই কর্মপ্রবাহ প্রমাণ করে, জনস্বার্থ রক্ষায় ছোট পদও অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।