নিশাত শাহরিয়ার
৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:07 AM
জনসংযোগ পেশায় আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের
জনসংযোগ পেশা চালু হয়েছে বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর ধরে। নতুন পেশা হিসেবে এর প্রতি তরুণদের আগ্রহ এবং এই পেশার ভবিষ্যতের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন 'কেয়ার পিআর বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ পারভেজ হাসান অপূর্ব।
পারভেজ হাছান অপূর্ব একাধারে সাংবাদিক, আলোকচিত্ৰকর, ইভেন্ট প্ল্যানার, ও ব্যবসায়ী। অপূর্ব বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় অর্থনীতি বিষয়ক অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বিজনেস বার্তা’ এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সাংবাদিকতা ছাড়া তিনি ‘অপূর্ব স্টুডিও বাংলাদেশ’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ‘ইনকর্পোরেটেড মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান।
জনসংযোগ নতুন পেশা হিসেবে কতটা জনপ্রিয়?
অপূর্ব: আসলে জনসংযোগ বিষয়টাই নতুন।আগে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পদে লোক নিয়োগপ্রাপ্ত থাকত। তবে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে পিআর পেশা খুব ভালো করছে এবং তরুণরা আগ্রহ ভরে উৎফুল্লচিত্তে এই পেশায় কাজ করছে। তারা পেশাটাকে উপভোগ করছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, পেশা হিসেবে পিআর খুব ভালো জায়গা করে নিচ্ছে।
কেউ এই পেশায় নতুন আসতে চাইলে যোগ্যতা হিসেবে কী দেখা হয়?
অপূর্ব: কেউ এই পেশায় নতুন আসতে চাইলে প্রথমেই যা দেখা হয় তা হলো, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে প্রার্থীর যোগাযোগ দক্ষতা। যে কোনো পরিস্থিতিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা নিজেকে কতটুকু মানিয়ে নিতে পারবে, প্রার্থী চটপটে কি-না। তার জানার পরিধি ইত্যাদি বিষয় দেখা হয়। আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়টা সবার আগে দেখা হয়।
কাজের ধরন কেমন জনসংযোগ কর্মকর্তার?
অপূর্ব: বেশ বড় কাজের পরিধি জনসংযোগ কর্মকর্তার। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি তিনি। তার কাজ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া, পত্রিকায় কী প্রেস রিলিজ যাবে সেটা তৈরি করা। এবং বিভিন্ন রকমের মিটিং আয়োজন তাকেই করতে হবে। মোট কথা, একটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব তারই।
নিয়োগকর্তারা এ ক্ষেত্রে কোন দক্ষতাকে প্রাধান্য দেন?
অপূর্ব: কাজ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই পেশায় যোগাযোগ দক্ষতা। এটাকেই মুখ্য মনে করা হয়। পারিপার্শ্বিক যে কোনো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। কথা গুছিয়ে বলতে হবে। আর চাপের মধ্যে থেকেও সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়?
অপূর্ব: এই পেশায় এখনও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপযোগী কোনো বিষয় পড়ানো শুরু হয়নি। তাই সাধারণত যারা সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেছে, এখন তারা-ই প্রাধান্য পাচ্ছে। আর লেখালেখির জন্য বাংলা কিংবা ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে যারা পড়াশোনা করেছে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ক্লায়েন্ট ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবসায় প্রশাসনে পাস করা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পায়।
জানাবেন কি কাজের ক্ষেত্রগুলোর কথা?
অপূর্ব: মোটামুটি নতুন এই পেশাটি। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান-সংস্থা নিজেদের ভালোর জন্য বুঝতে পারছেন এ পদে লোক নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা। তাই আমার মতে দিন দিন এই পেশার বৃদ্ধি পাবে। তাই তরুণরা যারা আসতে চান এই পেশায় তাদের আমি বলব, প্রতিমুহূর্তে নিজেকে তৈরি করতে হবে।