ইরফান হোসেন (পটিয়া প্রতিনিধি)
২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, 1:55 AM
চট্টগ্রাম-১২ আসনে জাপা প্রার্থীকে ঘিরে নেতাকর্মীদের অনীহা
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ফরিদ আহমদ চৌধুরীকে ঘিরে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অনীহা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
পটিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা দাবি করেছেন, মনোনীত প্রার্থী এখনো দলের মূলধারার নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মনোনীত প্রার্থীর রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ঘিরে রাজনীতি করায় মাঠপর্যায়ে তার পক্ষে প্রত্যাশিত সমর্থন গড়ে ওঠেনি। বরং তার পাশে রয়েছেন জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি।
এ প্রেক্ষাপটে গত ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক সংকট এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. নুরুচ্ছফা সরকার, দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী নুরুচ্ছফা নুরু, সিরাজুল ইসলাম (ইস্টিল), পটিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান, মোহাম্মদ হোসেন, ফরহাদুল ইসলাম বাবুল, দুলা মিয়া চৌধুরী (মেম্বার), নুর হোসেন সওদাগর, মো. জালাল উদ্দীন, পটিয়া পৌরসভা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, সদস্য সচিব এটিএম শাহাদাত হোসেন, পটিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল আলম, আবু বক্কর, আবুল কাশেম, মো. মুছা, যুব নেতা এম. ইরফান হোসেন, মো. রুবেল, আবদুর নুর রনি, আব্দুল হাকিমসহ আরও অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি মনোনীত প্রার্থী মূলধারার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমঝোতা ও ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। তবে দলীয় স্বার্থ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হবেন। প্রয়োজনে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার মতো পদক্ষেপও গ্রহণ করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।
বক্তারা আরও বলেন, দলীয় ঐক্য ছাড়া জাতীয় পার্টির নির্বাচনী সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। সংগঠনের ভিত মজবুত না করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি করলে দল আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।