নিশাত শাহরিয়ার
০১ নভেম্বর, ২০২৫, 5:45 PM
গুলশান থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আরিফের বহিষ্কারের দাবিতে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ
রাজধানীর গুলশানে শ্রমিক দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে গুলশান থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফের বিরুদ্ধে। ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের শাসনামলে রাজপথে থাকা কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে আওয়ামী লীগের লোককে কমিটিতে পদবি দেয়া এবং নিজের পছন্দমত লোকদের কমিটিতে স্থান দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে গুলশান থানা শ্রমিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শাহজাদপুরের বাঁশতলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে গুলশান থানা শ্রমিক দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সুবিধাবাদী আরিফকে শ্রমিক দল থেকে অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ সমাবেশে গুলশান থানা ১৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের শাসনামলে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নিয়মিত ছিল তাদেরকে বাদ দিয়ে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের পদবীধারী নেতাকর্মীদের গুলশান থানা শ্রমিক দলের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা কিনা বিএনপি'র মত একটি বড় দলের জন্য খুবই বিব্রতকর।
গুলশান থানা ১৮ নং ওয়ার্ডের এই শ্রমিক নেতা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে শ্রমিকদল আগেও যেমন রাজপথে ছিল তেমনি ভবিষ্যতেও রাজপথে থাকবে। তবে খুনি হাসিনার দলের কোন লোককে বিএনপি বা এর অঙ্গ সংগঠনে কোনভাবেই অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বলে জানান শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন রুবেল।
গুলশান থানা শ্রমিক লীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিলনকে শ্রমিক দলের বর্তমান কমিটিতে পদবী দিয়ে আরিফুল ইসলাম আরিফ আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন রুবেল ।
বিক্ষোভ সমাবেশে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারী আরিফুল ইসলাম আরিফের বহিষ্কার দাবি করে গুলশান থানা ১৮ নং ওয়ার্ডের আহবায়ক সবুজ মোল্লা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে আজ অবধি রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে রয়েছি। দীর্ঘ সময় নানা রকম নির্যাতন হয়রানির পরও জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। রাজপথে শ্রমিক দলের পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। অথচ কমিটি গঠনের সময় আওয়ামী লীগের লোকজনকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হচ্ছে। দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এসবের পিছনে আরিফুল ইসলাম আরিফ দায়ী বলে জানান এই শ্রমিক নেতা। বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সুমন মোল্লা, ইব্রাহিম, বাবুল মোল্লা, হান্নান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আরিফুল ইসলাম আরিফের মত বেইমান কখনো বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী হতে পারে না। যারা শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাস করে তারা কখনোই ফ্যাসিবাদের সাথে হাত মিলাতে পারে না। অবিলম্বে আরিফুল ইসলাম আরিফকে শ্রমিক দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তারা।