ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
নওগাঁর পোরশায় কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ভোলায় বিআরটিএ'র ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ বড়লেখায় সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের হুইল চেয়ার ও অর্থ বিতরণ শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে ১০০০ সদস্যের মাঝে ৩০০০ ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ রংপুরে চায়ের প্যাকেটে ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ব্রাজিলের খেলা দেখতে গিয়ে প্রাণ হারালো যুবক, পরিবারে শোকের ছায়া মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ১৩টি এয়ারগান ও গুলি জব্দ হলেও উল্লেখ নেই তালিকায় জন্মদিনের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন সাংবাদিক আল আমিন দেওয়ান আল আবেদী ৪১ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে আবেগঘন বিদায় কালীগঞ্জে ফুটপাত সড়ক দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

একুশের চেতনায় গড়ে উঠুক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ: এম ইরফান হোসেন

#

ইরফান হোসেন (পটিয়া প্রতিনিধি)

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬,  8:35 AM

news image

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জাতীয় যুব সংহতির নেতা এম ইরফান হোসেন ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদ ও সকল ভাষা সৈনিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি মহান ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, অধিকার সচেতনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার ন্যায্য দাবিতে ছাত্রজনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলিবর্ষণ গোটা জাতিকে নাড়া দিয়েছিল। শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অসংখ্য সংগ্রামী মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বাঙালির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও আত্মদানের ফলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়, যা ছিল অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক বিজয়।

বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পরও দীর্ঘ সময় বাংলা ভাষার ব্যবহার বাস্তব ক্ষেত্রে সীমিত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ বাংলা ভাষা প্রচলন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি অফিস-আদালতসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রভাষা বাংলা কার্যকর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এম ইরফান হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল কেবল ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নয়; এটি ছিল অন্যায়, বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম সংগঠিত প্রতিবাদ। একুশের চেতনা থেকেই জাতির মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়, যা পরবর্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দেয়। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের শেখায়—অধিকার কখনো আপসে অর্জিত হয় না, বরং ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে তা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও সমাজে যখন অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য দেখা দেয়, তখন মহান একুশের চেতনা আমাদের সাহস জোগায় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে। এই চেতনা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করে এবং জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়।

পরিশেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মহান একুশের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আসুন আমরা হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ হই। একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে এবং মহান একুশের চেতনা বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন