নিশাত শাহরিয়ার
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, 10:46 PM
অবশেষে পদোন্নতির মুখ দেখলেন স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের রোষানলের শিকার মোঃ মনির হোসেন
দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পর স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে অবশেষে চাকরি জীবনে সততার পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতির মুখ দেখলেন শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মো: মনির হোসেন। উপ- আঞ্চলিক পরিচালক থেকে বাংলাদেশ বেতারে আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হওয়ায় বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
মো: মনির হোসেন। যিনি দীর্ঘ ষোল বছর ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের রোষানলে পড়ে পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। বাংলাদেশ বেতারের মেধাবী ও দক্ষ এই কর্মকর্তার শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হওয়াটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল আওয়ামী ঘরানার ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের কাছে।
চাকরি জীবনে বারবার পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়া, ঘন ঘন ট্রান্সফার হওয়াসহ অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে নানাভাবে ব্যাঘাত ঘটানোর পরও নীতি ও আদর্শকে জলাঞ্জলি দেননি তিনি।
আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা মোঃ মনির হোসেন বলেন, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় চাকরি জীবনের অনেকটা সময় ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে।
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার রায় গোবিন্দপুরের বেতিহাটী গ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ মনির হোসেন শিক্ষাজীবনে গোবিন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা কলেজে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯০-৯১ সেশনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেন সরকারি এই কর্মকর্তা।
পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতির প্রতিও আকৃষ্ট এবং বেশ সচেতন ছিলেন তিনি। ১৯৯০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে ঢাকা মহানগর (উত্তর) ছাত্রদলের গঠনমূলক রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে অবিভক্ত উত্তরার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন মেধাবী এই ছাত্র নেতা।
চাকরী জীবনে জাতিসংঘের ILO তে অনেকটা সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে তথ্য ক্যাডারের ২৪ তম ব্যাচে মেধাবী ও দক্ষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের এপিএস, বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদকসহ রাষ্টীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সততাই জীবনের একমাত্র পুঁজি থাকায় চাকরী জীবনেও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্য টিউশনি করে পরিবারের খরচ মেটাতে হয়েছে তাকে। নিঃস্বার্থভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করার মাঝে জীবনের সফলতা খুঁজে পান পরোপকারী এই মানুষটি।
পিতা-মাতাকে সর্বোচ্চ ভক্তি ও দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আমৃত্যু ২০১৭ সাল পর্যন্ত মায়ের পাশে এবং বর্তমানে ১০৮ বছর বয়সী বাবার পাশে ছায়ার মত অবস্থান করছেন মা-বাবা ভক্ত মো: মনির হোসেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সংঘাতে তার মত আর কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়- এমনটাই প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশ বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোঃ মনির হোসেন।