রুয়েল কামাল, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)
২৬ আগস্ট, ২০২৬, 5:22 AM
বড়লেখায় চোরাচালানসহ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত
মৌলভীবাজারের বড়লেখার দক্ষিণ ভাগ উওর ইউনিয়নের রমজান গঞ্জ( বড়খলা) বাজারে রাতে এলাকাবাসীর আয়োজনে গৌড়নগর গ্রামের লুৎফুর রহমান জিম্মায় রাখা মহিষ সরানো, এলাকার লোকজনসহ এলাকাকে কলংকিত করা, এলাকায় ভারতীয় মহিষ চোরাচালান, চুরি মদ গাজাসহ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(২৪ আগষ্ট) সোমবার সাবেক ইউপি সদস্য রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল উদ্দিন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ ভাগ উওর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলিম উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ, ইউপি সদস্য হিফজুর রহমান, লিয়াকত আলী, বিএনপি নেতা হাজী এনামুল হক (আনই ইউনিয়ন) বিএনপির অর্থ সস্পাদক হেলাল আহমদ।
আরো বক্তব্য রাখেন খলাগাও সিএনজি ষ্ট্যান্ড পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজির আহমদ, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমদ, ৯ নং ওয়াডের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ খানসহ অনেকে। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ সর্ব শ্রেনীর লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ভারত থেকে চোরাই পথে আনা ১৪টি মহিষ বৈধ প্রমাণের জালিয়াতি, জিম্মাদারের হেফাজত থেকে ৯টি মহিষ উধাও এবং প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সরব। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন স্থানীয়রা।
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) ও বড়লেখা থানা পুলিশ দক্ষিণ ভাগ ইউনিয়নের গৌরনগর গ্রামে লুৎফুর রহমানের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৭টি গাভী ও ৭টি বাছুরসহ মোট ১৪টি ভারতীয় মহিষ জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে লুৎফুর রহমান ও তার ভাই মহিষগুলো বৈধ দাবি করে চান্দগ্রাম বাজারের ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার দুটি রসিদ প্রদর্শন করেন। তবে বিজিবি বাজারের টানা ৪৫ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মহিষ ক্রয় বা পরিবহনের কোনো প্রমাণ পায়নি। পাশাপাশি রসিদে উল্লেখিত বিক্রেতারাও জানান, তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় মহিষগুলো স্থানীয় জিম্মায় অভিযুক্তদের গোয়ালঘরেই রাখা হয়েছিল। গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) জালিয়াতি নিশ্চিত হওয়ার পর যৌথ বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষগুলো বুঝে নিতে গেলে দেখা যায়, ১৪টি মহিষের মধ্যে ৯টিই কৌশলে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরে তল্লাশি চালিয়ে মাত্র ৫টি মহিষ উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।
জিম্মায় থাকা মহিষ গায়েব ও জালিয়াতির ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে লুৎফুর রহমান, তার ভাই হিফজুর রহমান ও চান্দগ্রাম বাজারের ইজারাদার আলাল উদ্দিনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বড়লেখা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান রয়েছে যৌথ বাহিনী। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং উধাও হওয়া বাকি ৯টি মহিষ উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।