রুয়েল কামাল, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)
১১ অক্টোবর, ২০২৬, 5:56 PM
বড়লেখায় ক্বারী হোসাইনের সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্ক, থানায় মামলা
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ডিমাই এলাকার ক্বারী হোসাইন মোল্লাকে ঘিরে তাবিজ-দোয়া ও প্রতারণার অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগে ক্বারী হোসাইন মোল্লা, অনলাইন মিডিয়ার কর্মী মো. হিফজুর রহমানসহ নাম উল্লেখ না করা আরও ৭–৮ জনের বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় মামলা করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাদিকুর রহমান সুহেল।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার ডিমাই এলাকার আজির উদ্দিনের ছেলে ক্বারী হোসাইন মোল্লা (৪৫) তাবিজ-দোয়ার মাধ্যমে কয়েকজন নারী-পুরুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কেছরিগুল গ্রামের বুরহান উদ্দিনের ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সাদিকুর রহমান সুহেল (৪০) নজরে আসে।
সুহেলের দাবি, বিষয়টি হোসাইন মোল্লাকে অবগত করার পর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে সুহেলের মাধ্যমে কয়েকজনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলেও হোসাইন মোল্লা অঙ্গীকার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে হোসাইন মোল্লার বিরুদ্ধে আবারও একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সুহেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ক্বারী হোসাইন মোল্লা অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুহেলের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড রয়েছে। ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে সুহেল তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ তুলে তিনি ক্বারী হোসাইন মোল্লা তার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে কয়েকজন অনলাইন মিডিয়ার কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ সংবাদ সম্মেলনকে মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাদিকুর রহমান সুহেল। তাঁর অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনি ক্বারী হোসাইন মোল্লা, মো. হিফজুর রহমানসহ নাম উল্লেখ না করা আরও ৭–৮ জনের বিরুদ্ধে বড়লেখা থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে উভয় পক্ষের অভিযোগের সত্যতা, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যের যথার্থতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বড়লেখা থানা-পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও স্পষ্ট চিত্র জানা যাবে।
এব্যাপারে ক্বারী হোসাইন মোল্লার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ হয়েছে তার বক্তব্য চাইলে তিনি বলেন স্হানীয় ভাবে বসে বিষয়টি শেষ করা এখন আর কিছু বলতে চাই না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই অলিয়ার জানান, গত রাত অভিযোগ করা হয়েছে। আমি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।