শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)
২৪ আগস্ট, ২০২৬, 1:51 PM
পীরগঞ্জে আখ চাষে কৃষকের মুখে হাসি
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় এখন বানিজ্যিকভাবে কৃষি জমিতে গ্যান্ডারি জাতের আখ চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন স্থানীয় কৃষকগন। ধান পাট,এবং অন্যান্য ফসলের মতো উৎপাদন খরচ বেশী না হওয়া এবং লোকসানে না পড়ার কারণে আখ চাষ এখন অত্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের জন্য এ নতুন লাভজনক ফসলে পরিনত হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, তুলনামূলক ভাবে কম খরচে এবং কম পরিশ্রমে আখ চাষে অধিক মুনাফা পাওয়া কথা বলেন স্থানীয় কৃষকেরা। যদিও আখ চাষ প্রায় বিলুপ্তির পথে কিন্তু গ্যান্ডারী চাষে এখন নতুন সম্ভাবনার নতুন দিগন্তর সৃষ্টি হয়েছে। এই ফসল চাষ করে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কৃষক সফলতাও পেয়েছেন।
তাদের এই চোখ ধাঁধানো সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে আশপাশের আরও অনেক কৃষক নতুন করে আখ চাষ করতে আগ্রহী হচ্চেন। চতরা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের আখচাষী শফিকুল ইসলাম বলেন, মাত্র ৫০ শতাংশ জমিতে প্রতি বছর ধান চাষ করেও লাভের মুখ দেখিনি। পরে সেই জমিতে পৌষ মাসে গ্যান্ডারি আখ রোপণ করি। এখন ধানের তুলনায় আখ চাষে বেশি লাভ হচ্ছে। আখ বিক্রি নিয়েও আলাদা কোনো চিন্তা নেই। আখ ব্যবসায়ীরা জমি থেকেই নগদ টাকায় কিনে নিয়ে গিয়ে স্হানীয় হাট-বাজারসহ শহরেও তারা বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান বাজারে ১ মণ ধানের দাম ১ হাজার টাকা। আর আমি এ বছর সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ৫০ শতাংশ জমি থেকে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আমার ঘরে আসবে। বাজারে প্রতিটি আখ ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপর দিকে খালাশপীর এলাকার আফছার আলী জানান, ধান চাষে লাভ না হওয়ায় তিনিও গ্যান্ডারি আখের চাষ শুরু করেছেন এবং এতে ভালো লাভ পেয়েছেন। তার সফলতা দেখে আশপাশের কৃষকরাও আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জে কৃষিপল্লীতে প্রায় আড়াইশ হেক্টর জমিতে গ্যাভারি আখের চাষ করা হয়েছে।
স্থানীয় অনেক কৃষকের মতে, গ্যান্ডারি আখের চাষে লোকসানের সম্ভাবনা খুবই কম, বরং লাভের পরিমাণ বেশি। বাজারে একটি আখ ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সে হিসাবে এক হাজার আখ বিক্রি করলে উল্লেখযোগ্য আয় সম্ভব। এই অর্থকারী ফসল চাষে কীটনাশক খরচের পরিমাণ একটু বেশি হয়। তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন বলেই সফলতা পাচ্ছেন। আগস্ট মাসের শুরু থেকেই ক্ষেতের আখ স্থানীয় বিভিন্ন বাজারসহ শহরে বিক্রি শুরু হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, গ্যান্ডারি আখ চাষ লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এতে খরচ তুলনামূলক কম। যে কোনো ফসলের জমির আইলেও গ্যান্ডারি আখ চাষ করা যায়। সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ আখে রোগবালাইও কম দেখা যায়। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আখ রোপণের উপযুক্ত সময়। এ সময় রোপণ করলে ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে গ্যান্ডারী আখের চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।