শিহাবুর রহমান (পীরগঞ্জ)
৩১ আগস্ট, ২০২৬, 3:31 PM
পীরগঞ্জে অনাবৃষ্টির কারণে আমন খেতে ফাটল, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও বৃষ্টির অভাবে কারণে আমন ধানের খেতের মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন তীব্র তাপদহন,অনাবৃষ্টি এবং বৃষ্টির অভাবে অত্র উপজেলার বহু এলাকার ধানগাছ শুকিয়ে লালচে হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপযুক্ত সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে চলতি মৌসুমে আমনের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা ও শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার ব্যাপক হারে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু জমিতে চারা রোপণের পর থেকেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি। ফলে খেতের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে পাম্প ও শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। এতে আমন চাষে তাঁদের বাড়তি সেচ খরচ গুনতে হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় অনেক গুন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে অনেক আমনখেতের মাটি শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। রোদের তীব্রতায় পানির অভাবে ধানগাছের পাতা নুয়ে পড়েছে ও বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। খেতে পানি ধরে রাখতে না পারায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে জমিতে পানি সেচ দিচ্ছেন, তবে যেসব প্রান্তিক কৃষকের বাড়তি টাকা খরচ করে সেচ দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাঁদের ধানখেত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, আমনের চারা বাড়ন্ত হওয়ার এই সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানি ও আর্দ্রতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু টানা খরা ও রোদে জমির পানি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ দিয়েও খেতের আর্দ্রতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে অনাবৃষ্টি বজায় থাকলে ধানের ফলন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষিবিদ, সুমন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমন খেতের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টির পানি খুবই প্রয়োজন। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত যেসব জমিতে ফাটল ধরছে, সেখানে কৃষকদের হালকা সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি বিভাগের কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত খেত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।