বিপ্লব চৌধুরী (বিশেষ প্রতিনিধি)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, 11:55 PM
গাজীপুরে প্রতারক স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর নারী নির্যাতন মামলা
গাজীপুর জেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষিকা মোছাঃ লাভলী শেখ শান্তাকে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, আর্থিক শোষণ ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে স্বামী মোঃ সাফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, যৌতুক এবং সাইবার ক্রাইম মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সহজ-সরল হওয়ার সুযোগে স্বামী দীর্ঘদিন ধরে লাভলীর কাছ থেকে নানা কৌশলে টাকা আদায় করে আসছিলেন।
মোছাঃ লাভলী শেখ শান্তা মৌরপুর জেলার নকালা হাজার নারায়ন খোলা গ্রামের বাসিন্দা। মাদ্রাসা শিক্ষায় পড়াশোনা শেষে তিনি বর্তমানে গাজীপুরের গাছা থানার একটি বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। একই এলাকায় অন্য একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সুবাদে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রামপুর থানা ভাটিপাড়া গ্রামের মোঃ সাফিকুল ইসলামের। পরে ২০২৩ সালে তাদের বিয়ে হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সাফিকুল নানা অজুহাতে স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ নিতেন এবং ২০২৪ সালে দাম্পত্য জীবনের ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা দেখিয়ে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার টাকা আদায় করেন। লাভলীর বাবা ধারদেনা করে এসব দাবি মেটালেও পরে আর সক্ষম না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে।
এরই মধ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে লাভলী যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা করেন। মামলা করার খবর জানার পর সাফিকুল স্ত্রীকে ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ‘আবার সংসার করার’ প্রলোভন দেখান। স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে লাভলী তুরাগ থানাধীন চন্ডালপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়ের বাসায় গেলে সেখানে তাকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই করানো হয় এবং মোবাইলে এক অডিও রেকর্ড করিয়ে নেয়া হয়, যেখানে তাকে বাধ্য হয়ে বলতে হয় যে তিনি স্বামীর কাছে এক লাখ টাকা পেয়েছেন এবং তার বাবার কাছে সাফিকুলের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।
পরে লাভলী ঘটনাটি তুরাগ থানায় লিখিত অভিযোগ আকারে জমা দেন এবং গাজীপুর আদালতে সাইবার ক্রাইম আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা-মা জানান, তাদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। তারা ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন এবং এমন নেক্কারজনক ঘটনা আর যেন কারো সঙ্গে না ঘটে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।