এ কে এম শামসুজ্জোহা চৌধুরী (কুড়িগ্রাম)
২২ নভেম্বর, ২০২৫, 12:00 AM
কুড়িগ্রামে কৃষি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে মামলা
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর ও চাঁদাদাবির অভিযোগে উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু হানিফা সাদ্দাম (৩৩) ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই সদস্যসহ তিন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গনে ওই কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
‘মারধরের’ শিকার ওই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নাম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের আওতাধীন রমনা ইউনিয়নের দায়িত্বে রয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হাফিজুর রহমান (২৮) ও নাজমুল হুদা (৩০)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর সরকারি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণ চলাকালে কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু হানিফা সাদ্দাম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের কাছে কৃষি উপকরণ দাবি করেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। অভিযুক্তরা সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন এবং উপকরণ না দিলে চাঁদা দাবি করেন। তিনি ফের অস্বীকৃতি জানালে সাদ্দাম ও অপর দুই আসামি তাকে মারধর শুরু করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সহকর্মীরা ভুক্তভোগী কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে চিলমারী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে ওই কৃষি কর্মকর্তা বাদী হয়ে চিলমারী থানায় মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন,‘ কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত উপকরণ নিয়মের বাইরে দেওয়ার সুযোগ নেই। আমি দিতে না চাওয়ায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাকে মারপিট করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমি সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
অভিযুক্ত কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু হানিফা সাদ্দামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার এমন কর্মকান্ডের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক লুৎফুল হায়দার লিপটন ও জেলা নেতৃবৃন্দ।
জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব রুকুনুজ্জামান খন্দকার রুকু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চিলমারী উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায় বলেন, ‘ আব্দুর রাজ্জাককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের এখানে যারা চাকরি করছেন তাদের নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে ৷ মামলা হয়েছে। আমরা চাই আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার করা হোক ‘
ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ‘