ঢাকা, লোড হচ্ছে...
সংবাদ শিরোনাম
নওগাঁর পোরশায় কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ভোলায় বিআরটিএ'র ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ বড়লেখায় সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের হুইল চেয়ার ও অর্থ বিতরণ শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নে ১০০০ সদস্যের মাঝে ৩০০০ ফলজ বৃক্ষের চারা বিতরণ রংপুরে চায়ের প্যাকেটে ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ব্রাজিলের খেলা দেখতে গিয়ে প্রাণ হারালো যুবক, পরিবারে শোকের ছায়া মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ১৩টি এয়ারগান ও গুলি জব্দ হলেও উল্লেখ নেই তালিকায় জন্মদিনের শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন সাংবাদিক আল আমিন দেওয়ান আল আবেদী ৪১ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে আবেগঘন বিদায় কালীগঞ্জে ফুটপাত সড়ক দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

উপজেলার সিএ পদে চাকরি করে তিন মাসেই কোটিপতি

#

তিমির বনিক (মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি)

০১ ডিসেম্বর, ২০২৫,  12:16 AM

news image

রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার (সিএ)অনুপ দাশ। তার পৈত্রিক বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সবুজবাগ আবাসিক এলাকায়। এই পদে চাকুরী করে সবুজবাগে সুদৃশ্য ডুপ্লেক্স বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি।‌ 

তিন মাসেই কোটিপতি বনে গেছেন রাজনগর উপজেলা পরিষদের সিএ অনুপ দাস। চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা করে অতি অল্প সময়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে উপজেলা প্রশাসনে। তিনি রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর। চেক জালিয়াতি ও ভ্যাট ট্যাক্সের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। 

মৌলভীবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেনের পরিদর্শনে বিষয়টি ধরা পড়ে। এদিকে অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিলেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে না আসায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এতে আরও অনেকেই জড়িত আছেন এবং বিষয়টি সত্য কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, উপজেলার সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর অনুপ দাস ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর রাজনগরে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বড়লেখায় বদলি করা হয়। কিন্তু বদলি হওয়ার আগেই তিনি ৪ মাসে ১ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।

গত ২৮শে অক্টোবর রাজনগর উপজেলা পরিষদে পরিদর্শনে যান মৌলভীবাজার থেকে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন। এসময় পরিষদের ক্যাশ বইয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখলে অনুপ দাসের জালিয়াতি ধরা পড়ে।

জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোসা. শাহিনা আক্তার বিষয়টি তদন্ত করেন। এতে দেখা যায়, অনুপ দাস উপজেলা হাট-বাজারের তহবিল থেকে ৮০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫৫ টাকা, উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ৪০ লাখ টাকা ও উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এসব টাকার মধ্যে কিছু টাকা ব্যক্তি নামে নগদ উত্তোলন ও তার নিজের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদিকে এত অল্প সময়ে এত বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া হলেও বিষয়টি কারও নজরে না আসায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

পরিষদের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত চেকে কিছু খালি জায়গা রেখে ইউএনও’র সামনে চেক হাজির করতো সে। স্বাক্ষর হয়ে গেলে ওই চেকে টাকার পরিমাণের আগে আরও সংখ্যা বসিয়ে টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দিতো অনুপ দাস।

রাজনগরে তার জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর বড়লেখা উপজেলায়ও খোঁজ করা হয়। সেখানে একই কায়দায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে সে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মৌলভীবাজারের স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের তদন্তে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক অনুপ দাসের মোবাইল ফোনে কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল রবিবার (৩০শে নভেম্বর) দূর্নীতিবাজ অনুপ দাসকে বরখাস্ত করেন বলে নিশ্চিত করেন।

logo

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: ইমাম হোসেন